ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

আব্দুল্লাহ আল-মামুন

৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০৯

চা - শ্রমিকের জীবনচক্র

20340_tea.jpg
বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাত হলো চা শিল্প। আধুনিক নগর জীবনে কত ব্যস্ত মানুষ, কত বিচিত্র তার প্রকাশ! প্রতিটা রাতের শেষে সূর্য ওঠার মধ্য দিয়ে শুরু হয় আরেকটি কর্মমুখর দিন। শুরু হয় নিরন্তর ছুটে চলা। তারই মাঝে একটু অবসর। একটু অবকাশ নেওয়া। 

জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে- হাসি-কান্না, আনন্দ-বিষাদ-সবখানেই এক কাপ গাঢ় লিকারের চা নিয়ে আসে গভীর তৃপ্তি। শিল্পীর তুলির আঁচড়ের মতো সাজানো সবুজের এই রাজ্য দারুণভাবে টানে আমাদের। কর্মব্যস্ত নাগরিক জীবনের সব ক্লান্তি ভুলিয়ে দেয় প্রকৃতির নির্মল পরশ। অথচ এতো আলোর নিচেই যে আছে এক অন্ধকার জগৎ, সেটা আমরা ক’জন জানি? শৈল্পিক সৌর্ন্দযে বিমোহিত ক’জন খোঁজ রাখি কত কান্না, কত আর্তনাদ আছে ভেতরে?

এদেশে চা শিল্প বিকাশের একটা সুদীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। খ্রীস্টপূর্ব সময় থেকে চীনদেশে মূলত চায়ের প্রচলন। ৮০০ সাল থেকে বিভিন্ন দেশে প্রচলন শুরু হলেও এদেশে চায়ের প্রচলন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাত ধরেই। ১৮৩৪ সালে ভারতের গভর্নর জেনারেল লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংকের গঠিত কমিটি বিস্তর গবেষণার পর ঘোষণা দেয় যে, আসামের চা চীনা চায়ের চেয়ে অনেক উন্নতমানের।

এ ঘটনা চা শিল্পের জন্য নবদিগন্ত উন্মোচন করে। ১৮৫৪ সালে সিলেটের মালনীছড়া চা বাগানের মাধ্যমে এ অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে চায়ের চাষ শুরু হয়। কিন্ত সমস্যা হলো বাগান করতে প্রচুর শ্রমিক প্রয়োজন হয়। এত শ্রমিক আসবে কোথা থেকে? এর সমাধান খুঁজতে গিয়ে তৈরি হয় মানবসভ্যতার এক নির্মম ইতিহাস।

আজীবন কাজের শর্তে চুক্তিবদ্ধ করে বিহার, উড়িষ্যা, মাদ্রাজ, উত্তর প্রদেশ, বাকুড়া প্রভৃতি অঞ্চল থেকে গরীব চাষীকে চা শ্রমিক হিসেবে সংগ্রহ করা হয়। ব্রিটিশরা তাদের সামনে প্রচার করেছিল উন্নত জীবনের নানা গল্প, বলেছিল বাগানের গাছ নাড়া দিলেও নাকি পয়সা পড়বে। শুধুই ছলনা দিয়ে নয়, অনেকক্ষেত্রে রাষ্ট্রযন্ত্রের ভয়-ভীতি দেখিয়েও বাধ্য করা হতো তাদের কথা শুনতে।

অসহায় মানুষগুলো ধূর্ত ইংরেজদের কথায় বিশ্বাস করে নিজেদের পরিচিত আজন্ম পরিবেশ ছেড়ে চলে এসেছিল একটু ভালো জীবনের আশায়। দেড় শতাধিক বছর ধরে কি সীমাহীন আত্মত্যাগ আর কি অপূর্ব মমতায় এই শিল্পীরা গড়ে তুলেছে আজকের এই শিল্প তা বাইরে থেকে কল্পনা করা কঠিন। তখনকার গহীন অরণ্য আর পাহাড়ঘেরা বিস্তীর্ণ প্রান্তরকে চা শিল্পে রূপ দিতে গিয়ে সেদিন মেনে নিতে হয়েছিল প্রায় দাসোচিত জীবন। তারপরও বুকের নিভৃত কোনে জেগে ছিল একটু ভালো থাকার স্বপ্ন।

বর্তমানে চা বাংলাদেশের প্রধান অর্থকরি ফসল। বিশ্বের প্রায় ২৫ টি দেশে চা রপ্তানি হয় বাংলাদেশ থেকে। প্রায় ১৫ লক্ষাধিক জনগোষ্ঠীর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ শ্রমে সচল হয় দেশের অর্থনীতি। প্রতিদিন তিলে তিলে নিজেকে নিঃশেষ করে তৈরি করা সম্পদ নিজেদের জীবনে কাজে না লাগলেও তাতে প্রতিদিন ফুলে ফেঁপে ওঠে মালিকের ধনভান্ডার।

আজ যখন ১ কেজি চালের দাম ৫০-৬০ টাকা, পেঁয়াজের দাম কিছুদিন পরপর ১০০ ছাড়ায়, তখন চা শ্রমিকের মজুরি মাত্র ১০২ টাকা। কিছুদিন আগেও যা ছিল ৮৫ টাকা। আইএলও (আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা)-এর প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, ৫৫% চা শ্রমিকের মাসিক আয় ১৫০১ টাকা; ৩৩% এর ১৫০০ টাকা এবং মাত্র ২ শতাংশ চা শ্রমিকের আয় ৩ হাজার টাকা।

গত দশ বছরে চা শ্রমিকের দৈনিক মজুরি বেড়েছে ৭০ টাকা। প্রতিদিন খবরের কাগজ খুললেই আমরা দেখি উন্নয়নের জোয়ারে দেশ ভাসছে। দেশ এই সুইজারল্যান্ড হলো বলে! সত্যিই এ এক উন্নয়ন বটে! এই মজুরি দিয়ে শিক্ষা ও চিকিৎসা তো দূরের থাক, কোনোরকমে বেঁচে থাকাই দায়। যুগ যুগ ধরে এ অঞ্চলে চা শ্রমিকরা বসবাস করলেও ভূমির অধিকার দূরের কথা, ছোট আলো-বাতাসহীন ঘরে কোনোরকমে বসবাস করে তারা। ব্রিটিশ গেল, পাকিস্তানও বিদায় নিল। বারবার আশায় বুক বাঁধলেন চা শ্রমিকরা। কিন্ত হতাশ হতে হলো বারে বারে।

স্বাধীনতার ৫০ বছর অতিক্রান্ত হলো কিন্ত পূর্বপুরুষের ভিটায় চা শ্রমিকদের কোনো আইনি অধীকার নেই। মালিক চাইলেই যে কোনো শ্রমিককে বাগান থেকে তুলে দিতে পারে। আজ চা বাগানে যে শিশু ভূমিষ্ঠ হলো তার কোনো স্থায়ী ঠিকানা পর্যন্ত নেই। অনিশ্চিত তার ভবিষ্যৎ।

চা শ্রমিকরা যে মজুরি পান এতে তাদের পুষ্টির নূন্যতম চাহিদাও পূরণ হয় না। কর্মক্ষেত্রে বিশ্রাম, পানীয় জল ও স্বাস্থ্যকর সেনিটেশনের অভাবে শ্রমিকরা আছেন চূড়ান্ত স্বাস্থ্যঝুঁকিতে। ১৯৬৬ সালের ‘ট্রি প্ল্যান্টেশন লেবার অর্ডিন্যান্স’ ও ১৯৭৭ সালের ‘প্ল্যান্টেশন রুলস’ অনুযায়ি শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার দায়িত্ব বাগান কর্তৃপক্ষের। কিন্ত দেশের ১৬৪টি বাগানের মধ্যে ১ জন করে এমবিবিএস ডাক্তার আছে মাত্র ৬টিতে।
 
 আইএলও (আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা) বলছে, ৬৩ শতাংশ শ্রমিক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে। শ্রমিকদের মধ্যে ৭২ শতাংশ পেটের ব্যাথা, ৮৪ শতাংশ মাথা ব্যাথা ও ৭৪ শতাংশ মাংসপেশির ব্যাথায় ভুগছেন। শ্রমিকদের বড় অংশই ভোগেন রক্তশূন্যতায়। চা শ্রমিকদের ৬৪ শতাংশই নারী শ্রমিক। তাদের অবস্থা আরো করুণ। প্রায় ৯১ ভাগ নারী শ্রমিক তাদের সর্দারদের দ্বারা নিগ্রহের শিকার হন।

আধুনিক গনতান্ত্রিক সমাজে শিক্ষার অধিকার আছে সবার। সংবিধানেও এর স্বীকৃতি আছে। স্বাধীনতার পর ৪৯ বছর অতিবাহিত হয়েছে, কিন্ত আজও চা শ্রমিকরা শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত। সারা দেশের ১৬৬/১৬৭টি বাগানের মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে মাত্র ৬টিতে (মতান্তরে ১০/১৩ টিতে)। মাধ্যমিক স্কুল আছে মাত্র ৩ টিতে। শিক্ষার অধিকার থেকে মানুষকে বঞ্চিত করা এক অর্থে তাকে সমাজবিচ্যুত করে পশুর স্তরে নামিয়ে দেয়া। তার বিকাশের পথ রুদ্ধ করে অধীনতায় ঠেলে দেয়া। বছরের পর বছর অবহেলা ও অপমানের বোঝা বৃহৎ এ জনগোষ্ঠীকে সভ্যতার আলো থেকেই বঞ্চিত করেনি, নিজেকে মানুষ ভাবার অধিকার থেকেও যেন বঞ্চিত করেছে। তাদের এই পিছিয়ে পড়ার অন্যতম কারণ শিক্ষার অধিকার থেকে তাদের বঞ্চিত করা। 

গত দেড়শ’ বছরে অনেক কিছু পাল্টালেও, চা শ্রমিকদের এ দাসত্বের জীবন পাল্টায়নি। তারা আজো অধিকার বঞ্চিত। আজো সমাজ- সভ্যতা থেকে বিচ্ছিন্ন তারা। চা শ্রমিকদের এই দীর্ঘ পথচলা মূলত বঞ্চনা আর অপমানের ইতিহাস। ক্রমে তাদের নিঃশেষ হবার ইতিহাস। সভ্যতার এ নির্মমতার অধ্যায় আর কতকাল চলবে তার উত্তর মেলে ভার। তাদের সকল স্বপ্ন কেড়ে নিয়ে তৈরি হয় মালিকের মুনাফার পাহাড়। আর একেই ঘোষণা দেওয়া হয় উন্নয়ন বলে। 

শোষণের বহু পন্থার শিকার চা শ্রমিকরা। যেমন মজুরি নির্ধারণের প্রচলিত পদ্ধতির কোনো কিছুই অনুসরণ করা হয় না এ সেক্টরের মজুরি নির্ধারণের ক্ষেত্রে, যা বিভিন্ন সময়ে নির্ধারিত মজুরি লক্ষ্য করলে সহজেই বোঝা যায়। যেমন ২০০৭ সালে মজুরি ছিল ৩২ টাকা ৫০ পয়সা, ২০০৯ সালে মজুরি ছিল ৪৮ টাকা, ২০১৩ সালে মজুরি ছিল ৬৯ টাকা, ২০১৫-১৬ সালে মজুরি ছিল ৮৫ টাকা, ২০১৭-১৮ সালে মজুরি ১০২ টাকা। এই মজুরির মেয়াদকাল শেষ হওয়ার ২২ মাস পর গত ১৫ অক্টোবর বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন ও বাংলাদেশী চা-সংসদের মধ্যে স্বাক্ষরিত এক সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী চা শ্রমিকদের মজুরি এ ক্লাস বাগানে দৈনিক ১২০ টাকা, বি ও সি ক্লাস বাগানে যথাক্রমে ১১৮ ও ১১৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ন্যাশনাল টি কোম্পানি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন ছোট-বড় বাগানসহ সব মিলিয়ে বাংলাদেশে চা বাগান রয়েছে মোট ১৬২টি। চা-শ্রমিকদের অক্লান্ত পরিশ্রম, উৎপাদনে ভিন্ন কৌশল, নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার ও শ্রমিকদের আধুনিক প্রশিক্ষণের কারণে প্রতিবছরই চায়ের উৎপাদন বাড়ছে। গত বছর চা শিল্প ১৬৫ বছরের ইতিহাসে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে উৎপাদনে নতুন রেকর্ড করেছে।

বাংলাদেশ চা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে উৎপাদিত এ চায়ের পরিমাণ ৯৫ মিলিয়ন বা ৯ কোটি ৫০ লাখ কেজি । ২০১৯ সালে বাংলাদেশ চা বোর্ড এর চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮০ মিলিয়ন বা ৮ কোটি কেজি চা পাতা । উৎপাদনেরপরিমাণ লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ১৫ মিলিয়ন বা ১ কোটি ৫০ লাখ কেজি বেশি চা-পাতা উৎপাদন হয়েছে ।

চা সংশ্লিষ্টরা চায়ের বাম্পার ফলনের কারণ হিসেবে চা-বাগানগুলোতে চা শ্রমিকদের অক্লান্ত পরিশ্রম, প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাত, অনুকূল আবহাওয়া, পোকামাকড়ের আক্রমণ কম থাকা, খরার কবলে না পড়াসহ সর্বোপরী বাংলাদেশ চা বোর্ডের নজরদারিকে এবারের চা উৎপাদনে নতুন রেকর্ডের কারণ হিসেবে মনে করছেন। তবে প্রতিবছর চায়ের উৎপাদন বাড়লেও, পরিবর্তন হচ্ছে না চা শ্রমিকদের জীবনমানের।

সর্বশেষ ২০১৬ সালে চা-শ্রমিকের হাজিরা (দৈনিক বেতন) ৮৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০২ টাকা করা হয়েছিল। এরপর প্রায় ৪ বছর পেরিয়ে গেলেও আর বাড়েনি চা-শ্রমিকের বেতন। প্রতিদিন ২৪ কেজি পাতা তুললে একজন শ্রমিক পায় ১০২ টাকা। ২৪ কেজির কম পাতা তুললে আনুপাতিক হারে বেতন কাটা হয়ে থাকে।

একজন চা শ্রমিক সপ্তাহে ছয়দিন কাজ করে পায় ৬১২ টাকা। সঙ্গে রেশন হিসেবে আছে সপ্তাহে মাত্র তিন কেজি আটা। তা নিয়েও রয়েছে বিস্তর অভিযোগ।

সর্বত্র বাংলা ভাষা ব্যবহারে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা থাকলেও ঔপনিবেশিক মানসিকতায় কিছু চা বাগানে তা মানা হচ্ছে না। আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জসহ বেশ কয়েকটি চা বাগানের নিরক্ষর শ্রমিকদের এখনও ইংরেজিতে লিখা অভিযোগপত্র ও চিঠি প্রদান করা হচ্ছে। ফলে চা বাগানের লেখাপড়া না জানা শ্রমিকরা ভোগান্তি ও হয়রানির স্বীকার হচ্ছেন।

জানা যায়, ঔপনিবেশিক নিয়মে আগে সবগুলো চা বাগানে ইংরেজিতে শ্রমিকদের অভিযোগপত্র দেওয়া হতো। বর্তমানে কিছু বাগান বাংলা ব্যবহার করলেও মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় ডানকান ব্রাদার্সের মালিকানাধীন চা বাগানসমূহে আদালতের নির্দেশনার পর এখনও ইংরেজিতে অভিযোগপত্র প্রদান করছেন। এতে করে নিরক্ষর চা শ্রমিকরা যারা বাংলাই ঠিকমতো পড়তে পারেন না তাদের ইংরেজিতে চিঠি পড়তে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

৭ ফুট বাই ১৪ ফুট ঘরে পুরো পরিবারের বাস, শিক্ষা-স্বাস্থ্য নিয়ে তো ভাবার সুযোগই নেই। উপরন্তু দ্রব্যমূল্য পাল্লা দিয়ে বাড়লেও তাঁদের বেতন সেভাবে বাড়ে না। এভাবে নানা বঞ্চনা নিয়ে দুর্দশার জীবন কাটাচ্ছেন বাংলাদেশের চা শ্রমিকরা।
 
পৃথিবীর সবচেয়ে নির্যাতিত শ্রেণী হলো শ্রমিক শ্রেণী। বিংশ শতাব্দিতে শুরুতে দাঁড়িয়ে ঝঞ্জাবিক্ষুদ্ধ সমাজ দর্শনে গোটা বিশ্ব আজ আতংঙ্কিত। ন্যায়-নীতি, আদর্শ, শ্রমিকের অধিকার সব কিছুই অনুপস্থিত। এমনি এক সময় জাতির জাগরণী কাফেলার অগ্রযাত্রায় শোষণ, নিপিড়ণ ও দুর্বিপাক মানুষকে উদ্ধার করার জন্য প্রয়োজন ইসলামী শ্রমনীতির বাস্তবায়ন। তবেই প্রতিষ্ঠিত স্থায়ী শান্তি, সুদৃঢ় হবে শ্রমিক-মালিক সম্পর্ক আর শ্রমিক ফিরে পাবে তার ন্যায্য অধিকার। বাংলাদেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে হলে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকারসমূহ বাস্তবায়ন করে মালিক-শ্রমিকের মাঝে সুসম্পর্ক স্থাপন করতে হবে। ইসলামী শ্রমনীতিতেই শ্রমের মর্যাদা ও শ্রমিকের অধিকার সম্পর্কে যে নীতি অবলম্বন করেছে তাতে নেই কোন অসঙ্গতি এবং নেই মালিক ও শ্রমিকের মধ্যে কোন ভেদাভেদ।

 লেখক: এমফিল গবেষক