ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২২ আগস্ট ২০২১, ১৭:০৮

ইসরাইলী বুলেটে ফিলিস্তিনি তরুন ফুটবলারের স্বপ্নভঙ্গ!

20072_5555.jpg
খালিদ শারাহান ফিলিস্তিনি ফুটবলার। দলের সাজঘরে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। একটু পরেই ষ্টেডিয়ামের মাঠে নামবেন। শারাহান অন্যের সাহায্য না নিয়েই আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে হাতের ব্যান্ডেজ পরিধান করছেন।

কিন্তু গত ৫ মে থেকে সারহানের বন্ধু সাঈদ ওদেহ তাকে প্রত্যেক ম্যাচের আগে প্রায়ই ক্যাপটেইন ব্যান্ডেজ পরিয়ে দিতেন। পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চলীয় শহর নাবলুসের পেলে স্পোর্টস ফুটবল একাডেমীর হয়ে খেলতেন তারা।
কিন্তু তার বন্ধুর একটি টেলিফোন কল জীবনকে উল্টে দেয়।

“সন্ধ্যা বেলায় এক বন্ধু আমাকে কল করে বলেন: ‘আপনি সাঈদের বন্ধু?’ যখন আমি বললাম জ্বি,’ তিনি বললেন, আপনার বন্ধু পুকুরের দিকে যাওয়ার পথে সেনাবাহিনী গুলি করে তাকে হত্যা করেছে ।” ভারাক্রান্ত হৃদয়ে আনাদোলু এজেন্সিকে এসব কথা বলেন সারহান।
তার বাবা তাকে বন্ধুর মৃত্যুর ঘটনাটি নিশ্চিত না করা পর্যন্ত তিনি বন্ধুর মৃত্যুর খবরটি স্বাভাবিকভাবে বিশ্বাস করতে পারেননি।

বিকালবেলা ওদেহ দুভাগ্যবশত বন্ধুর সাথে তার গ্রাম ওদালা’র পুকুরের কাছে যাচ্ছিলেন। যাত্রাপথে তারা ক্রসফায়ারের শিকার হন।

ওদেহ’র ফুটবল কোট জিহাদ নেসার বলেন, ইসরাইলী বাহিনীর বুলেট এসে ওদেহ’র বুকে সরাসরি লাগে। সে একটি জলপাই গাছের পাশে লুকানোর চেষ্টা করেছিল। এরই মধ্যে তার অনেক রক্তক্ষরণ হয়। যখন গাছগুলোর মধ্যে ছিল, বর্বর বাহিনী আবারো তাকে গুলি করে। এতে গুলি তার কাঁধ ও বুক ঝাঝড়া করে দেয়।

একটি অ্যাম্বুলেন্সকে সেই মাঠের দিকে যেতে চাইলে গতিরোধ করা হয় যদিও ওদেহ মুমূর্ষ অবস্থায় ছিলেন। ইসরালী প্রতিরক্ষা বাহিনী সর্বদা আহত প্যালেষ্টাইনীদের সাহায্য করতে বাঁধা দেয়।

ঘটনার প্রায় এক ঘন্টা পর অ্যাম্বুলেন্সকে সেই মাঠে যেতে দেয় বর্বর ইসরাইলী বাহিনী। অ্যাম্বুলেন্স কর্মকর্তা ছিলেন ওদেহ’র চাচা ফায়েজ আবদ আল-জাবের।

চাচা হিসেবে আল জাবেরের জন্য এটি ছিল খুবই কষ্টের মুহূর্ত যখন তিনি দেখলেন তার ভাতিজা ওদেহ’র শরীর থেকে রক্তক্ষরণ হয়ে মাটি ভিজে যাচ্ছে। তিনি রাফিদ হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীদের সহায়তায় ভাতিজার জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করছিলেন, কিন্তু ওদেহ আহত হবার পর চিকিৎসা সুবিধা পাইতে দেরি হওয়ায় মারা যান।

নাসের বলেন, “ফেসবুকের মাধ্যমে আমরা খবরটি পাই,কিন্তু আমরা বিশ্বাস করতে পারিনি। আমরা ভাবছিলাম নামের কোথাও ভুল হচ্ছে যতক্ষণ না আমরা হাসপাতালে পৌঁছাই। এবং যখন আমরা তাকে দেখলাম আমরা বিশ্বাস করতে পারিনি সে আর নেই।”

কয়েক মাস অতিবাহিত হলেও ওদেহ’র কোচ ও দলের অন্য খেলোয়াড়রা এখনো শোকগ্রস্থ।

নাসের বলেন, “সে খুবই বন্ধুসুলভ ছিল, একই সাথে যখন সে খেলত অত্যন্ত নিপুনতার সাথে খেলত। সে তার সর্বোচ্চটা দেয়ার চেষ্টা করতো। ওদেহ চাচার সাথে প্রথমবার একাডেমীতে এসেছিলেন। সে চঞ্চল স্বভারে ছিল, তবে দ্বিধা ছাড়াই ক্ষমা চাইতো।

নাসের তাকে অনুর্ধ্ব-১৬ দলের হয়ে গ্রীষ্মে জার্মানির প্রধান একাডেমীতে পরিদর্শনে পাঠানোর পরিকল্পনা করছিলেন। কিন্তু জীবনের নিজস্ব কিছু পরিকল্পনা আছে।

কোচ বলেন, “ সাঈদ মাঝ মাঠের তুখোর খেলোয়ার ছিলেন,সে চরম উদ্যম ও শক্তি নিয়ে খেলতেন। সে তার অবস্থানে সৃষ্টিশীল ছিল, তারে অতিরিক্ত ক্রিয়াকলাপের কারণে বারবার হাত ভেঙে গিয়েছিল।”

কিন্তু সে বেঁচে থেকে জুন মাসে শার্ম আল-শেখ -এ তার দলের খেলাটি দেখতে পারলো না।
শারহান বলেন, “আজ আমাদের দল মিশর ত্যাগ করছে, তারা ওদেহ’র কবরে শান্তির জন্য দোয়া করেছে। আমরা তার ছবি আমাদের জার্সির মধ্যে এঁকে নিয়েছি সবসময়।”

স্টেডিয়ামের ফুটবল মাঠে ছয় বছর আগে বন্ধুত্ব হওয়ার কথা আবারো স্বরণ করে বলেন, আমরা একসাথে রাত-দিন কাটিয়েছি। তাকে হারানো বেদনাদায়ক। সে ছিল সারাজীবনের জন্য।

ওদেহ’র মৃত্যুর পর সারহান খেলা বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, কিন্তু তার পিতা-মাতা প্রিয় বন্ধুকে হারানোর শোক ভুলতে সাহায্য করে।“সাঈদের মা আমাকে তার একটি টি-শার্ট দিয়ে বলেছে; সবখানে খেলাধূলা করে তার সন্তানের নাম তুলে ধরতে।” তিনি বলেন।

শারহান বলেন, ওদেহ দেশ-বিদেশে বিভিন্ন টুর্নামেন্ট খেলে অনেক পুরস্কার পেয়েছেন। কিন্ত সে শার্ম আল-শেখ -এ তা আর জিততে পারলো না। আমরা তার নামে শার্ম আল-শেখে স্বপ্ন দেখেছি। ”এবং জিতেছি”

এনএনবিডি/আনসারী