ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

১৭ আগস্ট ২০২১, ০৮:০৮

কাবুলে শান্তির বার্তা

19966_TTTT.jpg
রাজধানী কাবুল দখলের মাধ্যমে পুরো আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছে তালেবান। অনেকটা বিনাবাধায় ও রক্তপাতহীনভাবে তারা রাজধানীসহ প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের দখল গ্রহণ করে। তালেবানরাও কোন প্রতিহিংসা চরিতার্থ ও প্রতিশোধ গ্রহণের চেষ্টা করেনি বরং তারা কোন সংঘাত চাচ্ছেন না বলে স্পষ্টতই জানিয়ে দিয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যোদ্ধাদের শান্ত থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে শীর্ষ পর্যায় থেকে। এও বলা হয়েছে যে, তারা কাবুলে ‘শান্তির বার্তা’ নিয়ে এসেছেন। গত রোববার সংগঠনটির এক সূত্রের বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। ফলে যুদ্ধবিদ্ধস্ত আফগানে নতুন  করে শান্তির  প্রতিধ্বনি শোনা যাচ্ছে। আর পশ্চিমী অপপ্রচারের সফল ও সার্থকভাবেই যথোপযুক্ত জবাব দিয়ে যাচ্ছে এই সংগঠনটি।
গত কয়েকদিন ধরেই পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলো প্রচার করে আসছিলো যে, তালেবানরা ক্ষমতা দখলের পর আফগানিস্তানে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে। কিন্তু তাদের সে দাবি ভুল প্রমাণ হয়েছে। ইতোমধ্যেই তারা বর্তমান আফগান প্রশাসনের বিভিন্ন পদে কর্মরত অথবা অতীতে পশ্চিমাদের পক্ষে কাজ করা সবার জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছে। সংগঠনটির মুখপাত্র সুহেইল শাহীন এক টুইটে জানিয়েছেন, (তার ভাষায়) যারা এর আগে ‘আগ্রাসনবাদীদের’ জন্য কাজ করেছেন বা তাদের সাহায্য করেছেন অথবা এখন যারা ‘দুর্নীতিবাজ’ কাবুল প্রশাসনের বিভিন্ন পদে কর্মরত আইইএ (ইসলামিক আমিরাত অব আফগানিস্তান) তাদের সবার জন্য দরজা খোলা রেখেছে এবং এরই মধ্যে ক্ষমা ঘোষণা করেছে। আমরা তাদের আরেকবার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি, যেন তারা দেশ ও জাতির সেবায় কাজ করতে এগিয়ে আসেন। যা খুবই সময়োচিত ও ইতিবাচক ঘোষণা।
এর আগে তালেবানের এ মুখপাত্র বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, আমরা আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ গানি ও অন্য নেতাদের আমাদের সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি। তালেবান নারীদের বিষয়ে আগের রক্ষণশীল অবস্থা থেকে সরে আসবে বলেও ঘোষণা দেয়া হয়েছে। শাহীন বলেছেন, আফগান নারীরা চাইলে বাড়ির বাইরে বের হতে পারবেন, তবে তা অবশ্যই শালীনভাবে হতে হবে। তিনি আরও জানিয়েছেন, তালেবানরা ক্ষমতা গ্রহণের পর গণমাধ্যমকে সমালোচনা করার অনুমতি দেওয়া হবে। তালেবান মুখপাত্র আস্বস্ত করে বলেছেন, ‘আমি কাবুলের বাসিন্দাদের আশ্বস্ত করছি, তাদের সম্পত্তি, বাড়িঘর এমনকি জীবন নিরাপদ থাকবে।
তালেবানের সূত্রের বরাত দিয়ে আলজাজিরার সাংবাদিক চার্লট বেলিস বলেছেন, তালেবান নেতারা সবাইকে শান্ত থাকার অনুরোধ করেছেন। তারা শান্তি, সমৃদ্ধি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের বার্তা নিয়ে এসেছেন। চার্লট বেলিসের ভাষায়, কাবুলে তালেবানের সংঘাতে জড়ানোর কোনো উদ্দেশ্য নেই। শহরের সরকারি ভবনগুলো সুরক্ষিত রয়েছে। কেউ শহরটি ত্যাগ করতে চাইলে তাদের এ সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নারীদের নিরাপদে অবস্থান করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে সংগঠনটির পক্ষ থেকে।
শান্তির স্বার্থে ও রক্তপাত এড়ানোর জন্যই তালেবানরা প্রথমেই তাড়াহুড়া করে কাবুলে প্রবেশ করেনি বরং গোটা রাজধানীকে চারদিক থেকে ঘিরে রেখেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতি বিবেচনায় যোদ্ধাদের রাজধানীতে প্রবেশের নির্দেশ দেয়া হয়। এরপরই আফগানিস্তানের ক্ষমতাচ্যুত সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানায়, আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে ঢুকে পড়েছেন তালেবান যোদ্ধারা। শহরটির চারদিক থেকে প্রবেশ করছেন বাহিনীটির যোদ্ধারা। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে দেশত্যাগী আফগান প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে জানানো হয়, কাবুলে বিচ্ছিন্ন কিছু গোলাগুলি হয়েছে। তবে রাজধানীতে বড় ধরনের কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
কাবুল দখলের আগে সকালে আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় গুরুত্বপূর্ণ শহর জালালাবাদের দখল নেয় তালেবান। কোনো প্রতিরোধ ছাড়াই তালেবান শহরটির দখল নিতে সক্ষম হয়। ফলে পুরো আফগানিস্তানই এখন তালেবান যোদ্ধাদের কব্জায়। কিন্তু কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনার ঘটনার সংবাদ পাওয়া যায়নি বরং পুরো আফগানিস্তানই এখন স্বাভাবিক ও শান্ত রয়েছে।
মূলত, তালেবানরা কাবুলে শান্তির বার্তা নিয়ে নতুন করে আবির্ভূত হয়েছেন বলেই মনে হচ্ছে। বিষয়টি তারা দেশের সকল নাগরিক ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বারবার আশ^স্ত করেছেন এবং এখন পর্যন্ত তাদের প্রতিশ্রæতির কোন ব্যত্যয় ঘটেনি। তালেবানরা তাদের দেয়া প্রতিশ্রæতি রক্ষা করে যুদ্ধবিদ্ধস্ত আফগানিস্তানে শান্তি, সমৃদ্ধি ও গ্রগতির পাতাকা উড্ডীন করুক শান্তিকামী বিশ^বাসীর তা-ই প্রত্যাশা