ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
ব্রেকিং নিউজ

৩ মে ২০২১, ২৩:০৫

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ৪১ জন মুসলিম প্রার্থী চূড়ান্ত বিজয়ী!

17165_9.jpg
মমতা ব্যানার্জীর ভূমিধস বিজয়ের সঙ্গী মুসলিম ভোটাররা। আর সেই মুসলমানদের থেকে এবার মমতা ব্যানার্জীর তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী করে সর্বমোট ৪৪ জন কে।

তৃণমূলের ৪৪ জন প্রার্থীর মধ্যে ৪০ জন ইতোমধ্যেই বিজয়ের মালা গলায় পরেছেন।

বিজেপি থেকে দাঁড়ানো ৯ জন মুসলিম প্রার্থীর মধ্যে কেউ বিজয় লাভ করতে পারেনি।

বাম - কংগ্রেস থেকে কোনো মুসলিম প্রার্থী না জিতলেও তাদের সাথে জোটবদ্ধ আব্বাস সিদ্দিকীর আইএসএফ থেকে ০১ জন মুসলিম প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।

অর্থাৎ তিনটি দল মিলিয়ে ৪১ জন মুসলিম প্রার্থী এখন পর্যন্ত বিজয় লাভ করেছেন।

তৃণমূলের ০২ জন মুসলিম প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন।

এছাড়া প্রার্থী মারা যাওয়ায় মুর্শিদাবাদের ০২ টি আসনে এখনো নির্বাচন হয়নি।  ঐ দুইটি আসনে তৃণমূল থেকে মুসলিম প্রার্থী দাঁড় করানো হয়েছে। সেখানেও পরবর্তীতে মুসলিম প্রার্থীরা বিজয়ী হতে পারে। কারণ এবার মুর্শিদাবাদের ২০ টা আসনের ১৮ টাই তৃণমূলের ঘরে এবং মুর্শিদাবাদ থেকে তৃণমূলের কোনো মুসলিম প্রার্থী হারেনি।


পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম বিধায়কের সংখ্যা গতবারের চেয়ে কমেছে এবার। গতবার ৫৯ জন মুসলিম বিধায়ক ছিলেন। এবার এই সংখ্যাটা ৪৩ জন ও হবে না।

তৃণমূল থেকে মুসলিম বিধায়কের সংখ্যা অবশ্য বাড়বে। গতবার তৃণমূল থেকে ৩২ জন মুসলিম বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন ( এবার সে সংখ্যাটা ইতোমধ্যে ৪০ জন )। গতবারের বাকি ২৭ জন মুসলিম বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন বাম - কংগ্রেস জোট থেকে।  এবার বাম কংগ্রেস থেকে কোনো মুসলিম প্রার্থী নির্বাচিত হতে না পারায় স্বাভাবিকভাবেই মুসলিম এমএলএ কমে গেছে।

২০১১ সালেও পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম বিধায়ক ছিলেন ৫৯ জন।

২০০৬ সালে মুসলিম বিধায়ক ছিলেন ৪৮ জন।

অর্থাৎ গত চার নির্বাচনের মধ্যে এবার মুসলিম বিধায়কের সংখ্যা কমে যাচ্ছে।

তৃণমূলের মুসলিম বিধায়করা যেসব জেলা থেকে নির্বাচিত হন।

→ উত্তর দিনাজপুর থেকে ০৫ জন।

→ দক্ষিণ দিনাজপুর থেকে ০১ জন বিজয়ী।

→ মালদহ থেকে ০৪ জন।

→ মুর্শিদাবাদ থেকে ১২ জন বিজয়ী,  নির্বাচন স্থগিত রয়েছে ২ টি মুসলিম প্রভাবিত আসনের।

→ নদীয়া থেকে ০২ জন বিজয়ী।  

→ উত্তর চব্বিশ পরগণাতে ০৪ জন বিজয়ী ( এবং ০২ জন প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন )।

→ দক্ষিণ চব্বিশ পরগণাতে ০৬ জন বিজয়ী।

→ কলকাতা থেকে ০১ জন বিজয়ী।

→ পূর্ব মেদিনীপুর থেকে ০১ জন বিজয়ী।

→ পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে ০১ জন বিজয়ী।

→ পূর্ব বর্ধমান থেকে ০২ জন বিজয়ী।

→ বীরভূম থেকে ০১ জন বিজয়ী।

( → হুগলি থেকে ০১ জন দাঁড়ালেও পরাজিত হন।)

তৃণমূল থেকে হেভিওয়েট মুসলিম বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন সাবেক মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ( কলকাতা পোর্ট আসন)। ফিরহাদ ভারত ভাগের পর কলকাতা সিটির প্রথম মুসলিম মেয়র ও বটে। হেভিওয়েট আরেক মুসলিম প্রার্থী হলেন সাবেক মন্ত্রী জাভেদ খান ( দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার কসবা আসন )। সাবেক মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বর আসন থেকে তৃণমূলের টিকিটে বিজয়ী হন।

এছাড়া সাবেক আইপিএস অফিসার হুমায়ন কবির পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরা থেকে তৃণমূলের টিকিটে বিজয়ী হয়েছেন। রাজনীতিতে নবাগত এই জাঁদরেল অফিসারটি যথাসম্ভব এবার মন্ত্রীত্ব পেতে পারেন।

আইএসএফের বিজয়ী একমাত্র প্রার্থী হলেন দক্ষিণ চব্বিশ পরগণা জেলার ভাঙর আসনের নওশাদ সিদ্দিকী। তিনি আব্বাস সিদ্দিকীর ছোটো ভাই।

তৃণমূলের মুসলিম প্রার্থী কমলেও বেড়েছে মুসলিম বিধায়ক!

২০১৬ সালে তৃণমূল ৫৬ জন মুসলিম কে প্রার্থী করলেও জয়ী হন ৩২ জন মুসলিম প্রার্থী।

আর এবার তৃণমূল কর্তৃক ৪৪ জন মুসলিম প্রার্থীকে নির্বাচনে দাঁড় করানো হয়। মুসলিম প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন ৪০ টি আসনে। এছাড়া এর মধ্যে দু'টি আসনে নির্বাচন স্থগিত রয়েছে।

অর্থাৎ বুঝাই যাচ্ছে, মুসলিমরা আর এবার ভোট ভাগ করেনি। গতবারের নির্বাচনগুলোতে মুসলমানদের অর্ধেক ভোট পেতো তৃণমূল আর অর্ধেক পেতো বাম - কংগ্রেস। কিন্তু এবার একচেটিয়া সব মুসলিম ভোট দিদির কাছে গিয়েছে।