ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
ব্রেকিং নিউজ

৩ মে ২০২১, ১১:০৫

প্রজাতন্ত্রের কর্মচারিদের ব্যবসা

17140_GGGG.jpg
বিধি মোতাবেক প্রজাতন্ত্রের কর্মচারিদের ব্যবসা করার বিষয়ে বিধি-নিষেধ থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে তারা ব্যাপক হারে ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে। সরকারি কর্মচারি (আচরণ) বিধিমালার সুষ্পষ্ট লঙ্ঘন করে তাঁরা ব্যবসায় জড়াচ্ছেন। বেতনভাতা বাড়ানোর পরও সরকারি চাকরিজীবীদের ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি কেউই সঙ্গত মনে করছেন না। এমতাবস্থায় যেসব কর্মকর্তাকর্মচারি ব্যবসায় জড়িত, তাঁদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে চিঠি দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। কিন্তু এতেও পরিস্থিতিতে উন্নতি হয়নি।
ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, কিছু কিছু সরকারি কর্মকর্তা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা সরকারের অনুমোদন ছাড়া বিভিন্ন ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন, যা সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা ১৯৭৯এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। বিধিমালার ১৭ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, কোনো সরকারি কর্মচারী সরকারের অনুমোদন ছাড়া, সরকারি কাজ ছাড়া অন্য কোনো ব্যবসায় জড়িত হতে পারবেন না। অন্য কোনো চাকরি, বৃত্তি বা লাভজনক কোন কাজে অংশ গ্রহণ করতে পারবেন না। পরিবারের সদস্য অর্থাৎ স্ত্রীসন্তানও ব্যবসা করতে পারবেন না।
সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যবসায় জড়িয়ে যাওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে গত বছর দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের সময়। আইন ও বিধির তোয়াক্কা না করেই জাতীয় হৃদ্রোগ ইনস্টিটিউটের কার্ডিয়াক সার্জারি ইউনিটের রেজিস্ট্রার ডা. সাবরিনা চৌধুরী জেকেজি নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিস্ট্রার শারমিন জাহান একজন সরকারি চাকরিজীবী হয়েও মাস্ক সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে। শুধু এই দুজনই নন, অন্যান্য ব্যবসায়ও সম্পৃক্ত হচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা।
বিষয়টি একেবারে অভিনব না হলেও সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রবণতা খুবই বেড়েছে। জনপ্রশাসন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে কোম্পানির পরিচালক পদে যুক্ত হওয়ার সংখ্যা দিন বেড়েছেই চলেছে। সরকারি পদে থেকে তাঁরা অন্য প্রতিষ্ঠানের অংশীদার হয়ে যাচ্ছেন। প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মচারী হয়ে সরকারের অনুমোদন ছাড়া নানাবিধ বৃত্তি গ্রহণ করে তাঁরা মালিক বনে যাচ্ছেন প্রচুর অর্থবিত্তের। কেউ কেউ জমি ও ফ্ল্যাট কেনাবেচায় জড়িয়ে মালিক হচ্ছেন অঢেল সম্পত্তির। আবার অনেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পরামর্শক হচ্ছেন। কেউ কেউ ফার্ম করে পেছনে থেকে সরকারি দপ্তরের কাজ বাগিয়ে নিচ্ছেন। যা শুধু অনাকাঙ্খিতই নয় বরং অনৈতিকও।
মূলত, আমাদের দেশে সরকারি চাকুরিতে এখনো শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ২০১৯ সালে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা আজ পর্যন্ত কার্যকর করতে পারেনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। ১৯৭৯ সালের সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী, সরকারের কাছে প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর সম্পদ বিবরণী দাখিল করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিলেও কিছুসংখ্যক কর্মকর্তার বাধার মুখে সেটি কার্যকর হয়নি।
সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যবসা করার খবর আগে তেমন একটা শোনা যেত না। ইদানীংকালে বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। ফলে প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারিরা মেধা, মনন ও যোগ্যতা পুরোপুরি প্রজাতন্ত্রের খেদমতে কাজে লাগাতে পারছেন না বরং এসব ব্যবসায়ি কর্মকর্তা-কর্মচারিরা অনেকটা আত্মকেন্দ্রীয় হয়ে উঠেছেন। এমতাবস্থায় দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারিদের ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হওয়া দরকার। যাঁরা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাঁদের বিরুদ্ধে অনতিবিলম্বে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যবসায় জড়িয়ে যাওয়ার বিষয়টি মেনে নেওয়ার মতো নয়। কারণ তারা প্রজাতন্ত্রের সেবায় নিয়োজিত।
মূলত দেশে আইনের শাসন অভাব ও ভঙ্গুর গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির কারণে সকল শ্রেণি ও পেশার মানুষের মধ্যেই সুবিধাবাদী শ্রেণি সৃষ্টি হয়েছে। আর জনপ্রশাসনও তা থেকে আলাদা থাকতে পারেনি। তাই দেশ থেকে সকল সকল প্রকার বেআইনী ও বিধিবহির্ভূত কার্যক্রম বন্ধ করতে হল আইনের শাসন ও সুস্থ্যধারার গণতান্ত্রিক চর্চার কোন বিকল্প নেই। অন্যথায় কোন উদ্যোগই সফল হবে না।