ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
ব্রেকিং নিউজ

৩০ এপ্রিল ২০২১, ১১:০৪

কার্বন নিঃসরণ পরিস্থিতি উদ্বেগজনক

17072_Car.jpg
আন্তর্জাতিক জ¦ালানী সংস্থা (আইইএ) আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছে, বিশ্বজুড়ে চলতি বছর কার্বন ডাই-অক্সাইডের নিঃসরণ বিপজ্জনকভাবে বৃদ্ধি পাবে। এদিকে জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, গত বছর বিশ্বজুড়ে জলবায়ু সংকট প্রকট আকার ধারন করেছে। তা অব্যাহত থাকবে চলতি বছরেও। ফলে বৈশি^ক আবহাওয়া পরিস্থিতির বড় ধরনের আশঙ্কা  করছেন আন্তর্জাতিক আবহাওয়াবিদরা। আইইএ বার্তা সংস্থা এএফপি বরাতে বলেছে, মহামারী করোনাভাইরাসের নেতিবাচক প্রভাবে বিশ্বজুড়েই অর্থনীতির চাকা স্থবির হয়ে পড়েছিল। সে অচলাবস্থা কাটিয়ে অর্থনীতি আবার পুনরুজ্জীবিত হতে শুরু  করেছে। অর্থনৈতিক এই পুনরুদ্ধারে যে উপকরণগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে, কয়লা তার মধ্যে অন্যতম। এর ফলে ২০২১ সালে এত পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ হবে, যা হবে ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
গেøাবাল এনার্জি রিভিউয়ে বলা হয়েছে, চলতি বছর বিশ্বজুড়ে কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ প্রায় ৫ শতাংশ বেড়ে যাবে। অর্থাৎ মোটের ওপর ৩ হাজার ৩শ কোটি ডটন কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ হতে পারে ২০২১ সালে। অথচ গত বছর করোনা মহামারির কারণে বিশ^ব্যাপী লকডাউন ও চলাচলে বিধিনিষেধের কারণে কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ স্বস্তিদায়ক পর্যায়ে কমে এসেছিল। কিন্তু সে ধারাবাহিকতা রক্ষিত হয়নি।
২০১৯ সালে সাম্প্রতিক ইতিহাসে সর্বোচ্চ পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ বিজ্ঞানীরা। আইইএ বলছে, এ বছর নিঃসরণ বাড়লেও তা ২০১৯-কে ছাড়াতে পারবে না। তবে ২০২১ সালে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি চাহিদা মহামারির আগের পর্যায়ে পৌঁছবে। ফলে কার্বন নিঃসরণও আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাবে।
জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সালে বিশ্বজুড়ে জলবায়ু সংকট প্রকট হয়েছে। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে সংকটে পড়া কোটি কোটি মানুষের সমস্যা আরও প্রকট করে তুলেছে করোনাভাইরাস মহামারি। এদিকে মহামারির কারণে লকডাউন, চলাচলে বিধিনিষেধের কারণে বিশ্বজুড়ে কার্বন নিঃসরণ কমলেও তার ইতিবাচক কোনো প্রভাব আপাতদৃষ্টে বায়ুমন্ডলে পড়েনি। ফলে সমস্যা যেখানে ছিল সেখানেই রয়ে গেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রার হিসাবে ২০২০ সাল ছিল ২০১৬ ও ২০১৯ সালের মতো সাম্প্রতিক ইতিহাসের উষ্ণতম বছর। আর ২০১১-২০ হলো ইতিহাসের উষ্ণতম দশক। এতে আরও বলা হয়, ২০২০ সালে বিশ্বজুড়ে চরমভাবাপন্ন আবহাওয়ার প্রভাবে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ পরিলক্ষিত হয়েছে। যেমন যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়, দক্ষিণ আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ায় দাবানল, অস্ট্রেলিয়া ও আর্কটিক অঞ্চলে তাপপ্রবাহ, আফ্রিকা ও এশিয়ার বড় অংশজুড়ে বন্যার মতো ঘটনা বেড়ে গিয়েছিল গত বছর। বিষয়টিকে মাত্রাতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণ কেন্দ্রীক বৈশি^ক উষ্ণায়নের নেতিবাচক প্রভাব হিসাবেই দেখছেন পরিবেশ বিজ্ঞানীরা।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার পক্ষে জানানো হয়েছে, বৈশি^ক জলবায়ু পরিবর্তন ত্বরান্বিত হচ্ছে। ফলে আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে ভূপৃষ্ঠের উষ্ণতা। সঙ্গত কারণেই প্রাকৃতিক দুর্যোগ বারবার আঘাত হানছে এবং এর হারও ক্রমবর্ধমান। মূলত, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষয়ক্ষতি বাড়ছে এবং মানুষ, সমাজ ও অর্থনীতি আক্রান্ত হচ্ছে। তাই বৈশি^ক পরিবেশকে ভারসাম্যপূর্ণ ও স্বস্তিদায়ক রাখতে বিশে^র সকল জাতিরাষ্ট্রকে কার্বন নিয়ন্ত্রণে একযোগে কাজ করার সময় এসেছে।
এমতাবস্থায় কার্বন নিঃসরণের লাগাম টেনে জলবায়ু পরিবর্তনের ধারাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে উন্নত দেশগুলোকে খোলা মন নিয়ে সবার আগে এগিয়ে আসতে হবে। এজন্য বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রী সেলসিয়াসে সীমাবদ্ধ রাখতে উন্নত দেশগুলোকে কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে অবিলম্বে কার্যকর ও ইতিবাচক কর্ম-পরিকল্পনা প্রণয়ন করা দরকার। সম্প্রতি হোয়াইট হাউজের উদ্যোগে ‘লিডার্স সামিট অন ক্লাইমেট’ শীর্ষ সম্মেলনে কার্বন নিঃসরণ কমানোর সাথে সাথে পরিবেশ বান্ধব প্রযুক্তির উদ্ভাবন, বিকাশ ও ব্যবহারের ওপরে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। যা খুবই  বাস্তবসম্মত। মূলত, কার্বন নিঃসরণ রোধে বিশ^ নেতৃবৃন্দকে ঐক্যবদ্ধ ও কার্যকরী প্রয়াস গ্রহণ করা দরকার। অন্যথায় বিপজ্জনক কার্বন নিঃসরণ রোধ করা যাবে না।