ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
ব্রেকিং নিউজ

স্টাফ রির্পোটার

২৮ এপ্রিল ২০২১, ১০:০৪

বিসিকের প্রস্তাব নিয়ে সমীক্ষা

17022_17018_thumbXS_bbbb.jpg

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে সাভারের হেমায়েতপুরে চামড়াশিল্প নগরে ট্যানারি স্থানান্তরের কাজ দীর্ঘ দেড় যুগেও শেষ করতে পারেনি। তারপরও সংস্থাটি ওই শিল্পনগরের পাশে ২০০ একর জমিতে একই ধরনের আরেকটি চামড়াশিল্প পার্ক করার প্রস্তাব দিয়েছে। বিসিকের প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রস্তাবিত শিল্পনগরে ১৯০ উদ্যোক্তাকে প্লট দেওয়ার সুযোগ থাকবে এবং এক লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। এ প্রকল্পে ব্যয় হবে ৩ হাজার ৫১৮ কোটি টাকা, যার পুরোটাই বহন করতে হবে সরকারকে। ২০২৫ সালের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শেষ হবে বলে জানানো হয়েছে। কিন্তু  অতীতের ধারাবাহিকতায় এই প্রকল্পের সাফল্য নিয়ে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদী হতে পারছেন না।

জানা গেছে, সরকারি সংস্থাটি ইতিমধ্যে নতুন শিল্পনগর স্থাপনের প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে। কিন্তু কমিশন এখনো বিষয়টি ইতিবাচক হিসাবে গ্রহণ  করেনি। কমিশনের বক্তব্য হচ্ছে, বিসিকের সক্ষমতা নিয়ে রয়েছে নানাবিধ প্রশ্ন। তারা যেখানে চামড়াশিল্প নগর করার প্রস্তাব দিয়েছে, সেখান থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে ৯০০ একর জমিতে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)। এত কম দূরত্বে দু’টি সংস্থার জন্য এত জমি পাওয়া মোটেই সহজসাধ্য হবে না। সে জন্য সরকারের দুই সংস্থার অধীনে দুটি শিল্পাঞ্চল না করে বরং সমন্বয়ের তাগিদ দিয়েছে কমিশন। যা সত্যিই ইতিবাচক।

জানা গেছে, বিসিকের প্রস্তাবিত চামড়াশিল্প পার্ক নিয়ে ৭ এপ্রিল ভার্চ্যুয়াল প্ল্যাটফর্মে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, সরকার সারা দেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করছে। সভায় বলা হয়, বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে বিসিকের অতীত অভিজ্ঞতা ভালো নয়। হাজারীবাগ থেকে সাভারের হেমায়েতপুরে ট্যানারি, অর্থাৎ চামড়াশিল্প স্থানান্তরের কাজ শুরু হয় ২০০৩ সালে। কিন্তু এখন পর্যন্ত প্রকল্পটির কাজ শেষ হয়নি। কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধনাগার (সিইটিপি) চালু হয়নি। বর্জ্য ফেলার জায়গা ডাম্পিং ইয়ার্ডও করা যায়নি।

নতুন চামড়াশিল্প নগর করার পেছনে বিসিক অবশ্য কয়েকটি যুক্তি তুলে ধরেছে। বিসিক দাবি করছে, চামড়াজাত দ্রব্য ও ফুটওয়্যার শিল্পের ১৩০ জন প্লট পেতে আগ্রহ দেখিয়েছে। বিদেশি কয়েকটি উদ্যোক্তাও নতুন প্লট চায়। সব মিলিয়ে প্লটের জন্য আবেদন পড়েছে ১৯০টি। নতুন উদ্যোক্তাদের জমির ব্যবস্থা করতেই চামড়াশিল্প পার্ক স্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে। কিন্তু বিবিসের অধীনে দীর্ঘ মেয়াদে একটি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন থাকায় এবং প্রকল্পর অগ্রগতি সন্তোষজনক না হওয়ায় এসব যুক্তিকে সংশ্লিষ্টরা আমলে নিতে চাচ্ছেন না।

তবে এ বিষয়ে বিসিক হাল ছাড়তে রাজী নয়। তারা তাদের স্বপক্ষে যুক্তি দিয়ে বলছেন, ‘করোনা মহামারীর কারণে তৈরি পোশাকশিল্পের আর এগোনোর সুযোগ নেই। এমতাবস্থায় চামড়াখাত তার বিকল্প হতে পারে। দেশের ১৮ কোটি মানুষের জুতার জন্য এক লাখ উদ্যোক্তা প্রয়োজন। আমরা সেই সুযোগ করে দিতেই আরেকটি চামড়াশিল্প পার্ক করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’

অবশ্য পরিসংখ্যান বিসিকের দাবির পক্ষে নয়। চামড়া খাতের অতীত গৌরব এখন আর নেই। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে চামড়া খাতে রপ্তানি আয় ছিল ১২৩ কোটি ডলার, যা পরের ২০১৮-১৯ অর্থবছরে কমে ১০১ কোটি ডলারে নেমে আসে। এর পরের অর্থবছর অর্থাৎ ২০১৯-২০ অর্থবছরে এ খাতের রপ্তানি আয় আরও কমে ৮০ কোটি ডলারে নেমে গেছে। এভাবে একসময় দ্বিতীয় শীর্ষ রপ্তানি খাত এখন চতুর্থ স্থানে নেমে এসেছে। তাই বিসিকের নতুন প্রকল্পের যৌক্তিকতা কেউই প্রশ্নাতীত মনে করতে পারছেন না।

এমতাবস্থায় বিসিকের অধীনে নতুন করে বৃহদাকার প্রকল্প গ্রহণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য বড় ধরনের সমীক্ষার আবশ্যকতা দেয়া দিয়েছে। শুধু আকাশকুসুম চিন্তায় নতুন নতুন প্রকল্প গ্রহণ করলেই চলবে না বরং তা অবশ্যই বাস্তবসম্মত হওয়া দরকার। অন্যথায় রাষ্ট্রীয় অর্থের শুধু অপচয়ই হবে। যা কখনোই কাঙ্খিত নয়।