ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
ব্রেকিং নিউজ

সৈয়দ মাসুদ মোস্তফা

২১ এপ্রিল ২০২১, ০৮:০৪

উন্নয়ন প্রকল্পে নৈরাজ্য

16980_UUU.jpg
দেশে দুর্নীতি ও অনিয়ম প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে বলে জনশ্রæতি রয়েছে। রাষ্ট্রের এমন  কোন সেক্টর নেই যেখানে দুর্নীতি থাবা বিস্তার করেনি। সে ধারাবাহিকতায় সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পও এখন নৈরাজ্যের কবলে। মূলত, মধ্যস্বত্ত¦ভোগীদের অবৈধ উচ্চাভিলাষ ও লাগামহীন দুর্নীতির  কারণেই প্রকল্পগুলো নির্ধারিত মেয়াদে ও বরাদ্দকৃত অর্থে শেষ হচ্ছে না। ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নে রাষ্ট্রের প্রভূত অর্থের অপচয় হচ্ছে।
মূলত, আত্মস্বার্থ ও গোষ্ঠীস্বার্থ চরিতার্থ এবং অনিয়ন্ত্রিত অনিয়মের কারণে বারবার প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ছে, একই সাথে বাড়ছে ব্যয়ও; অথচ কাজের যথাযথ মান নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে না বলে অভিযোগ বেশ জোরালো। এসব অতিপুরনো খবর হলেও মত নতুন খবরও বাতাসে ভাসছে। জানা গেছে, সরকারের কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান নাকি সরকারি প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে ভাবতে শুরু করেছে। তারা বলছেন, দশকজুড়ে উন্নয়ন প্রকল্প একই চক্রে ঘুরপাক খাওয়ায় সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। তাই এই অশুভবৃত্ত থেকে বেড়িয়ে আশা দরকার। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে এই অচলাবস্থার জন্য দুর্নীতির কোন সম্পর্ক আছে কি না, সরকারি আলোচনায় তা স্থান পায়নি। যা জনমনে হাস্যরসেরই সৃষ্টি করেছে।
বস্তুত চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ানো নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করার পর বিষয়টি মহল বিশেষে আলোচনায় এসেছে। এর মাসখানেক আগেও প্রধানমন্ত্রী একই বিষয়ে তার অসন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন। কিন্তু বিষয়টি রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহীর উষ্মা আর অসন্তষ্টির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে।
তবে কোন কোন সময় বিশেষ করে জাতীয় সংসদের হিসাব কমিটি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন কাজের ধীরগতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। গত ২৪ ফেব্রæয়ারি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি বলেছে, প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা ও ব্যয় বৃদ্ধি এখন সাধারণ প্রবণতায় পরিণত হয়েছে। নির্ধারিত সময় ও ব্যয়সীমার মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের দৃষ্টান্ত এখন নেই বললেই চলে। কিন্তু এ বিষয়টিও রীতিমত উদ্বেগ-উৎকন্ঠার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে।
সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতার ধারাবাহিকতায় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) অনেক প্রকল্পের কাজ সময় মতো শেষ করতে পারছে না বলে জানা গেছে। প্রকল্পের কাজ শেষ হতে না হতে বারবার সময় ও বরাদ্দ বাড়িয়ে নেয়া হচ্ছে সম্পূর্ণ রহস্যজনকভাবে। এতে রাষ্ট্রীয় তহবিলের হাজার হাজার কোটি টাকার অপচয় হচ্ছে। রাজউকের অনেক প্রকল্পের কাজ সময় মতো শেষ না হওয়ায় চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন অধিগ্রহণ করা জমির মালিকরা।
গণপূর্ত অধিদফতরের হাতে থাকা প্রকল্পগুলোর মধ্যে ১৯টি প্রকল্পের অগ্রগতি মাত্র ৩০ শতাংশ বা তারও নিচে বলে জ্ঞাত হওয়া গেছে। এসবের মধ্যে ১৪টি প্রকল্পের কাজ চলতি বছরে শেষ করার কথা ছিল। গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতায় বর্তমানে ১০২টি প্রকল্পের কাজ চলমান বলে জানা গেছে। এর মধ্যে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ১০টি প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ, গণপূর্ত অধিদফতরের ৩৩টি এবং জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ৩২টি বাকিগুলো মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য বিভাগ কাজ করছে। তবে রাজউকের অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের এসব ভবনের ফ্ল্যাট নির্ধারিত সময়ে না পেয়ে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিলেন বরাদ্দ প্রাপ্তরা। যা খুবই যৌক্তিক।
রাজধানীর-গুলশান-বনানী-বারিধারা লেক উন্নয়ন প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে বেশ আগেই। কিন্তু এখনও কাজই শুরু করা যায়নি। এছাড়া গুলশান-বনানী-বারিধারা লেক উন্নয়ন প্রকল্পে ডিপিপি সংশোধনের জন্য গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অনেক প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও এখনও ভৌত কাজই শুরু হয়নি। সম্প্রতি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে প্রকল্পে অগ্রগতি সম্পর্কে পাঠানো প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বিভাগের আওতায় বর্তমানে ১০২টি প্রকল্প চলমান। এর মধ্যে গণপূর্ত ১০টি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক), অধিদফতরের ৩৩টি, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ৩২টি প্রকল্প রয়েছে। বাকিগুলো এ মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য বিভাগের হাতে। ২০১৯ সালের জুলাইয়ে ঢাকার অফিসার্স ক্লাবের বহুতল ভবন নির্মাণে প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। যা এ বছরের জুনে শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নের শুধুমাত্র দরপত্র আহ্বানের মধ্যে সবকিছু সীমাবদ্ধ রয়েছে। কাজের কাজ কিছুই হয়নি। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের আটটি প্রকল্পের কাজ এ বছরে শেষ করার কথা থাকলেও সেগুলোর ৫০ শতাংশও অগ্রগতি নেই।
রাজউকের বহুল আলোচিত ঢাকার উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরে নিম্ন ও মধ্যআয়ের জনগোষ্ঠীর জন্য অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণ প্রকল্পের অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৪২ শতাংশ। ২০১১ সালের নভেম্বরে শুরু হওয়া এ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা চলতি বছরের ডিসেম্বরে। কিন্তু পর্যন্ত ছয়টি ভবন নির্মাণ এখনও বাকি। অগ্রগতি পিছিয়ে রয়েছে-ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্প এলাকার আবাসিক ও বাণিজ্যিক অবকাঠামোর উন্নয়ন প্রকল্পের কাজও। ২০১৭ সালের জুলাইতে শুরু হওয়া এ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা চলতি বছরের জুন মাসে। অথচ এ প্রকল্পের অগ্রগতি মাত্র পাঁচ শতাংশ বলে জানা গেছে।
উত্তরায় রাজউক অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের এসব ভবনের ফ্ল্যাট নির্ধারিত সময়ে না পেয়ে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিলেন বরাদ্দ প্রাপ্তরা। চট্টগ্রামে ৩৬টি পরিত্যক্ত বাড়ির জায়গায় সরকারি কর্মচারীদের জন্য আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণের জন্য ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে একটি প্রকল্প হাতে নেয় গণপূর্ত অধিদফতর। ১ হাজার ১শ ৩১ কোটি ৮৫ লাখ ৯৪ হাজার টাকার ওই প্রকল্প এ বছরের জুন মাসে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা শেষ হয়নি। প্রকল্পের আওতায় আটটি প্যাকেজে ৩৫টি বাড়ি নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। ছয়টি প্যাকেজে ২৮টি ভবন নির্মাণে চুক্তি হয়েছে। দু’টি প্যাকেজ নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। বাকিগুলোর কাজ শুরুর বিষয়ে যেটুকু অগগ্রতি হয়েছে তা শুধুই নথিপত্রের। বাস্তবে অনেক কাজ এখনও শুরুই হয়নি।
ঢাকার মিরপুরে আবাসিক ফ্ল্যাট ‘স্বপ্ননগর আবাসিক প্রকল্প-১’ ও ‘স্বপ্ননগর আবাসিক প্রকল্প-২’ এবং উত্তরার তৃতীয় ধাপের ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন করে দ্রæত শেষ করার সুপারিশ করেছে কমিটি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গণপূর্ত ও গৃহায়ন মন্ত্রণালয়ের উপর্যুপরি ব্যর্থতার কারণেই প্রকল্পগুলো যথাসময়ে ও নির্ধারিত বরাদ্দে শেষ করা যাচ্ছে না।  মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন কাজে একটি অসাধু চক্র সক্রিয় রয়েছে বলে জানা গেছে। সরকার যখন জুয়াড়ি চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে, তখনও এই অশুভচক্র নিজেদের অপকর্ম চালিয়ে গেছে বহাল তবিয়তে। মূলত, সর্ষের মধ্যে ভূত থাকায় এই মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধ করা যাচ্ছে না। ফলে সরকারি উন্নয়ন  প্রকল্পগুলো এখন রীতিমত গতিহীন ও নিষ্ফলা হয়ে পড়েছে।
সম্প্রতি সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে নতুন ফিৎনার সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প নতুন করে তৈরী বা নির্মাণের চেয়ে নির্মিত জিনিস মেরামত বা সংস্কারেই খরচ হচ্ছে বেশি। যা কোন ভাবেই কাঙ্খিত ও সঙ্গত নয়। এসবের বেশির ভাগই দেখা যাচ্ছে নদীর তীর রক্ষা, বাঁধ নির্মাণ ও সেচ প্রকল্পগুলোতে। তিস্তা সেচ প্রকল্পের কয়েকটি খাতে এধরনের ভৌতিক খরচের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবনায় দেখা যায়, তিস্তা সেচ প্রকল্পের পরিধি আরো বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে মন্ত্রণালয়। এর মাধ্যমে এক লাখের বেশি হেক্টর জমি সেচ সুবিধার আওতায় আসবে এবং একই সাথে ৮৬ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে সরকারি সূত্র দাবি করেছে। অনুমোদন পেলে সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে চলতি সময় থেকে ২০২৪ সালের জুন মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। কিন্তু এসব সম্প্রসারিত প্রকল্পের জন্য ব্যয়ের বিষয়টি এখনও অস্পষ্টই রয়ে গেছে।
মন্ত্রণালয় সূত্র দাবি করেছে, উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় সেচের পানির অভাবে শস্যসঙ্কট এখন স্থায়ী সমস্যা। শুষ্ক মৌসুমে তো বটেই আমন মৌসুমে বর্ষা ও বর্ষা-উত্তরকালে খরা এখন স্থায়ী রূপ নিয়েছে। প্রকল্প এলাকায় সেচের পানির প্রাপ্যতাও খুবই সীমিত। একমাত্র তিস্তা ছাড়া অন্যান্য ছোট ছোট নদী ও খালগুলোতে পানিপ্রবাহ খুবই কম থাকে। তাই তিস্তা নদীতে ব্যারাজ নির্মাণ করে এ অঞ্চলে একটি সেচ প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা ব্রিটিশ আমল থেকেই অনুভূত হয়ে আসছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৬০ সালে প্রাথমিক এবং ১৯৬৮-৭০ সালে দ্বিতীয় সম্ভাব্য সমীক্ষা সম্পাদন করা হয়। পরীক্ষামূলকভাবে ১৯৬৬-৬৭ সালে নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলায় ৯১.৫০ মিটার দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট বুড়িতিস্তা ব্যারাজ নির্মাণ করা হয়। প্রকল্পটি আওতায় ৬৩.৭২ কিলোমিটার সেচ খাল নির্মাণ করা হয়।
পরবর্তীতে ১৯৭৯ সালে তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হওয়ায় বুড়িতিস্তা সেচ প্রকল্পের ৩৩.৭৮ কিলোমিটার খালসহ প্রায় ৫ হাজার হেক্টর কমান্ড এলাকা তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্প প্রথমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ২০১০ সালের পর থেকে তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্পের সেচ খালগুলোর নাজুক পরিস্থিতির কারণে সেচের আওতাভুক্ত এলাকা ক্রমেই কমতে শুরু করে। বর্তমানে বাস্তব অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে সেচ খালগুলোর পুনর্বাসন ও শক্তিশালীকরণ কাজ সম্পাদন করতে নিরবচ্ছিন্নভাবে সেচের পানি সরবরাহ করে প্রকল্পের সেচযোগ্য এলাকা বৃদ্ধি এবং ফসলের নিবিড়তাসহ উৎপাদন বৃদ্ধি করা একান্ত প্রয়োজন বলে মনে করে সরকার সংশ্লিষ্টরা।
প্রকল্পের আওতায় কাজগুলো হলো ৭৬৬.৩১ কিলোমিটার সেচ খালের ডাইক শক্তিশালীকরণ, ৭২ কিলোমিটার সেচ পাইপ স্থাপন, ¯েøাপ প্রটেকশন ১০.৮ কিলোমিটার, ¯েøাপ মেরামত ১.০৬ কিলোমিটার, বাইপাস সেচ খাল নির্মাণ ৭.১৩ কিলোমিটার, ২৭টি কালভার্ট নির্মাণ, ৪টি সেতু নির্মাণ, ১১.৮৯ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ, ২৭০ হেক্টর জলাধার ও খাল পুনঃখনন, সাড়ে ৯ কিলোমিটার চ্যানেল পুনঃখনন, ৬ কিলোমিটার পরিদশন রাস্তা নির্মাণ, ৫২.২৮ কিলোমিটার পরিদর্শন রাস্তা মেরামত, ৫৭টি নিষ্কাশন অবকাঠামো নির্মাণ, ৩টি নিষ্কাশন অবকাঠামো মেরামত, ২০টি রেগুলেটর নির্মাণ এবং ৬টি রেগুলেটর মেরামত। এ ছাড়াও রয়েছে ১৮টি অনাবাসিক ভবন মেরামত ও ৮৭ হাজার ২৪৩টি বৃক্ষরোপণ।
কিন্তু, ব্যয় পর্যালোচনা থেকে দেখা যায়, প্রকল্পে ৩৬৯.৪৩ কিলোমিটার সেচ খালের ডাইক পুনর্বাসন ও শক্তিশালী করা হবে। তাতে খরচ হবে ৬১৯ কোটি ৭১ লাখ ১৭ হাজার টাকা। ফলে কিলোমিটারে ব্যয় হচ্ছে এক কোটি ৬৮ লাখ টাকা। ¯েøাপ প্রটেকশন ১০.০৮ কিলোমিটার কাজে ব্যয় হবে ৪৫ কোটি ৩৮ লাখ ১১ হাজার টাকা। প্রতি কিলোমিটারে সাড়ে ৪ কোটি টাকা। আর মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণে ১.০৬ কিলোমিটারে খরচ ধরা হয়েছে ৭ কোটি ২২ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। ফলে মেরামতে কিলোমিটারে ব্যয় হবে ৬ কোটি ৮১ লাখ ৫০ হাজার টাকা অর্থাৎ নির্মাণের চেয়ে মেরামতেই খরচ ২ কোটি টাকার বেশি। নিকাশ কাঠামোয় সাইফুন নির্মাণে ৫৫টিতে প্রাক্কলন করা হয়েছে ২৮ কোটি ৬৭ লাখ ৪৩ হাজার টাকা। প্রতিটিতে ব্যয় ৫২ লাখ ২৯ হাজার টাকা। তবে এই সাইফুন ৩টি মেরামত খরচ ধরা হয়েছে ৩ কোটি ৩৯ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। প্রতিটির মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণে খরচ ১ কোটি ১৩ লাখ ১৬ হাজার টাকা। যা বাস্তবতার সাথে মোটেই সঙ্গতিপূণ নয় বরং এসব প্রকল্পকে সরকারি অর্থ অপচয়ের উপলক্ষ বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা ।
মূলত, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে চলছে সীমাহীন নৈরাজ্য। পরিকল্পিতভাবে ও অসৎ উদ্দেশ্যে উন্নয়ন প্রকল্পের মেয়াদ ও বরাদ্দ বারবার বাড়ানো হলেও কাজের অগ্রগতি ও মান নিয়ে অসন্তষ্টি থেকেই যাচ্ছে। এমতাবস্থায় পরিকল্পনা কমিশনের পক্ষ থেকে প্রকল্পের ব্যয় প্রাক্কলন অনুমোদিত নকশা ও রেট শিডিউল অনুযায়ী করার তাগিদ এসেছে। অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে ব্যয় কমানোরও পরমর্শ এসেছে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে। এমনকি সুবিধাভোগীদের তালিকাও প্রণয়নের নির্দেশ এসেছে। কিন্তু কে শোনে কার কথা! কারণ, ভূত তো রয়েছে সর্ষের মধ্যেই। তাই সমস্যা তো সমস্যায় থেকে যাচ্ছে।
মূলত  আমাদের কথা ও কাজের সমন্বয়হীনতায় কোন অভিনবত্ব নেই। রবীন্দ্রনাথ হয়তো সে কথাটি অনেক আগেই উপলব্ধি করে খেদোক্তি করেই বলেছিলেন, ‘আমরা আরম্ভ করি, শেষ করি না; আড়ম্বর করি, কাজ করি না।’ তাঁর এই শ্লেষাত্মক বাণীর যথাযথ প্রতিফলন ঘটছে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক কর্মকান্ডে। তার সাথে যুক্ত হয়েছে সংশ্লিষ্টদের আত্মপুঁজা ও উচ্চাভিলাষ !