ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
ব্রেকিং নিউজ

স্টাফ রির্পোটার

২০ এপ্রিল ২০২১, ১৫:০৪

ক্র্যাকডাউন: হেফাজতে ইসলামের ভবিষ্যৎ কী?

16966_হেফাজত-----.jpg
দেশে সর্বাত্মক লকডাউনের মাঝেও আলোচনায় থাকছে হেফাজতে ইসলাম। নানা ঘটনার সাথে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় বাদ থাকছে না অরাজনৈতিক এই সংগঠনটি। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে করোনা মহামারীর এই সময়ে সমান গুরত্বপূর্ণ হেফাজতের কর্মকান্ড। এজন্য সরকার এব্যাপারে অনমনীয় নীতি গ্রহণ করেছে। বিরোধী দলগুলোর মতো পুরোন মামলায় হেফাজতের একের পর এক নেতাকে গ্রেফতার সরকারের ক্র্যাকডাউন নীতির বহিঃপ্রকাশ কি না তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
তবে সরকার দাবি করছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং চট্টগ্রামের হাটহাজারীসহ বিভিন্ন জায়গায় নাশকতা বা সহিংসতার ঘটনায় যারা জড়িত ছিল, তাদেরকে চিহ্নিত করে পুলিশ গ্রেপ্তার করছে।
চলতি বছরের মার্চে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বাংলাদেশ সফর করেন। সেসময় সফরকে কেন্দ্র করে তুমুল বিরোধিতা শুরু করেন দেশের বিভিন্ন মহল। আর সহিংস কিছু ঘটনার পর থেকে দেশের রাজনীতির মাঠ বেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠে।
এদিকে সহিংস ঘটনায় সরকার দলীয় লোকজন জড়িত থাকলেও তারা ধরাছোঁয়ার বাহিরে রয়ে গেছেন এখনো।
সহিংস ওই ঘটনার পর ধর্মভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ন মহাসচিব মামুনল হক ও বেশ  কিছু কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতাসহ বিভিন্ন জায়গায় থেকে ২০০ অধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে । এরই মধ্যে মামুনুলকে ৭ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। এবং আরো একটি মামলায় তাকে রিমান্ডে চাইবে বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা সংস্থা সিআইডি।
এ বিষয়ে হেফাজত নেতারা বলছেন , সরকার লকডাউনকে পুঁজি করে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর গ্রেফতার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে ।
এদিকে গত ১৩ এপ্রিল গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে  সংগঠনটির আমির আল্লামা বাবুনগরী বলেন, ২০১৩ সালে দায়েকৃত মিথ্যা মামলায় দীর্ঘ আট বছর পর গ্রেফতার হওয়া নতুন ষড়যন্ত্রের অংশ বলে আমি মনে করি। ২০১৩ সালের মামলায় এখন গ্রেফতার হওয়া কতটা হাস্যকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
এরপর ১৯ এপ্রিল গণমাধ্যমে পাঠানো একটি ভিডিও বার্তায় তিনি দাবি করেন মোদির সফর নিয়ে কোনো কর্মসূচি ছিল না হেফাজতের। একইসাথে তিনি এও বলেন ইসলাম কখনো কোনো জ্বালাও পোড়ানোতে বিশ্বাস করে না। তিনি বিচ্ছিন্ন ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে গ্রেফতারকৃত নেতাদের মুক্তি দাবি করেন। ২০ মিনিটের ওই ভিডিওতে হেফাজতের সাথ অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পৃক্ততা প্রমান কেউ করতে পারবেন না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে বিভিন্ন সময় হেফাজতের কর্মসূচিকে ঘিরে  সহিংসতার মামলায় বাংলাদশ জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপি নেতাকর্মীদেরও গ্রেফতারের অভিযোগ উঠেছে ভুক্তভোগীর পরিবার ও দল দুটির পক্ষ থেকে। এরই মধ্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল  লকডাউনের মধ্যে বিরোধী মতের ওপর ক্র্যাকডাউন চালানোর অভিযোগ তুলেছেন।  একইভাবে জামায়াতের সেক্রেটারী জেনারেল সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার নারায়ণগঞ্জে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের ডাকা হরতালে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মামলায় মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মাঈনুদ্দিন আহমেদসহ ৩ জনকে গ্রেফতারের  নিন্দা জানিয়ে  এক বিবৃতি প্রদান করেছেন
অন্যদিকে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ বলেছেন, নাশকতা বা সহিংসতায় জড়িতদের চিহ্নিত করে তাদেরকেই আওতায় নেয়া হচ্ছে। "যারা এই সন্ত্রসী বা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ছিল, ভিডিও ফুটেজ দেখে তাদেরকে চিহ্নিত করেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেছেন, "সহিংস ঘটনাগুলোতে বিএনপির নেতাকর্মীরা জড়িত ছিল। এসবের ভিডিও ফুটেজ আছে। তার ভিত্তিতেই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।"
এছাড়াও মামলা থেকে বাদ যায়নি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাবেক সহ-সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুর ।
ফেসবুক লাইভে একটি বক্তব্যের কারণে নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ১৯ এপ্রিল পল্টন ও শহবাগ থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলা দায়ের করাকে  নুরুল হক নুর একটি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করছেন।

হেফাজতের সাথে সমঝোতার গুঞ্জন

হেফাজতের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে গতকাল  সোমবার রাতে ধানমন্ডির সরকারি বাসভবনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সাথে বৈঠক করছেন । জানা যায় বৈঠকে তিনটি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।  এরমধ্যে ঢালাওভাবে গ্রেফতার বন্ধ, সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত ঘটনাগুলোর তদন্ত এবং কওমি মাদ্রাসা খুলে দেয়া।
অনেক বিশ্লেষকরা মনে করছেন , সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতারা সমঝোতার চেষ্টা করছেন। তারই  ধারাবাহিকতায় তারা গোয়েন্দা সংস্থা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত রাজধানী ঢাকাতেই হেফাজতের মধ্যম ও শীর্ষ নেতৃবৃন্দের মধ্যে ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
হেফাজতের প্রতিষ্ঠাতা আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফি একসময় সরকারের সাথে সুসম্পর্ক স্থাপন করে কিছু দাবি আদায় করেছিলেন। সেসময় সরকারের তরফ থেকেও শীর্ষ মন্ত্রীরা যোগাযোগ করতো সংগঠনটির সাথে। তবে শফির ইন্তেকালের পর দৃশ্য পাল্টে যায়। হেফাজতের নতুন নেতৃত্বের সাথে সরকারের সমঝোতা না হওয়ায় এমন ক্র্যাকডাউন চালিয়ে নমনীয় করার কৌশল গ্রহণ করা হয়ে থাকতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। সংগঠনটিকে ধ্বংস করতে বা নিষিদ্ধ করার কোনো পরিকল্পনা নিয়ে সরকার এগুচ্ছে কি না  এনিয়েও সচেতন মহলে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
হেফাজতে ইসলামকে জুলুম নির্যাতনের মাধ্যমে সমঝোতায় আসতে বাধ্য করে জাতীয় পার্টির মত নিয়ন্ত্রণ করার কৌশল নিয়েছে কি না তা এখনো পরিস্কার নয়। তবে সরকারের এমন নীতি প্রতিপক্ষের সাথে হেফাজতের দুরত্ব কমবে না, বাড়বে বলেই মনে হচ্ছে।  এর মধ্য দিয়ে হেফাজতের রাজনৈতিক পরিপক্বতার বিকাশ ঘটবে। হেফাজতের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে তাদের নেতৃত্বের দূরদর্শিতার ওপর।