ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
ব্রেকিং নিউজ

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

১৮ এপ্রিল ২০২১, ১৬:০৪

লকডাউনে তালা-পাটকেলঘাটায় নির্যাতনের শিকার নিন্ম আয়ের মানুষেরা

16911_nf856545.jpg
ছবি- সংগৃহীত
কথায় কথায় সাধারণ মানুষকে লাঠি পেটা করে নিজের ক্ষমতা জাহির করার অভিযোগ সাতক্ষীরার তালা উপজেলার পুলিশের সার্কেল এসপি হুমায়ুন কবিরের ইপর। তার হাত থেকে রেহায় পাচ্ছে না গনমাধ্যম কর্মীসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে বাইরে আসা অসহায় খেঁটে খাওয়া মানুষ।
 
লকডাউনের শুরু থেকে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এ সহকারী পুলিশ কর্মকর্তা এমন অভিযোগ ভুক্তভোগিদের। পাটকেলঘাটা থানার ফোর্স নিয়ে অতর্কিত ভাবে হামলা চালিয়ে নিন্ম আয়ের মানুষের উপর লাঠি পেটা অভ্যাহত আছে বলে জানান ভুক্তভোগিরা। ইতিমধ্যে একজন ইটভাটা ম্যানেজারকে পিটিয়ে তার ডান হাত ভেঙ্গে দিয়েছেন। তিনি বয়োবৃদ্ধ হওয়ায় তীব্র যন্ত্রনায় বিছানায় কাতর।

অনুসন্ধান ও ভূক্তভোগীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বলেন, শনিবার (১৭ এপ্রিল) দুপুর ৩টার দিকে পাটকেলঘাটার স্থানতরিত (পাটকেলঘাটার বলখেলার মাঠ) শবজির বাজারে হামলা চালাতে শুরু করে। এসময় বাজারে হরেকরকম শাঁক-শবজি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় কাঁচাবাজারে নিজেই পা দিয়ে লাথি মেরে বিভিন্ন শবজি ঝুঁড়ি থেকে ফেলে দেয়।
 
এ সময় ওই বাজারে বাজার করতে থাকা বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার সাতক্ষীরা প্রতিনিধি মনিরুল ইসলাম মনির হাতে থাকা ফোনটি ছিনিয়ে নেন। এছাড়াও পেশাগত কাজে নিয়োজিত থাকা কালিন সাপ্তাহিক জনতার মিছিল পত্রিকার বার্তা সম্পাদকদের ব্যবহারিত মোটরসাইকেলের চাকা ছিদ্র করে তার মোটরসাইকেল টি জব্দ করে এবং তাঁকে গালিগালাজ করে।

গতকাল শনিবার বিষয়টি সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমানকে জানানো হলে তিনি বিষয়টি সমাধান আশ্বাস দেন।

এদিকে পুলিশ সুপারকে জানানোর ১৫ মিনিট পরেই এ্যসিল্যান্ড অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা পাটকেলঘাটা প্রেসক্লাবেব সভাপতি শেখ জহুরুল হক ও দৈনিক কালের চিত্র প্রত্রিকার সাংবাদিক শাহিন বিশ্বাসের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল অকেজো করে দেওয়া হয়।

তার কিছু পরে দুপুর আড়াইটার দিকে পাটকেলঘাটা থানার কুমিরা কদমতলা বাজারে আবার সাধারণ মানুষের উপর লাঠি পেটা করেন। এসময় জরুরি ঔষধ কিনতে আসা অভয়তলা গ্রামের ঈদ্রিসকে মটরসাইকেলের গতিরোধ করে চাকায় ভোমর ফুটানোসহ মারপিট করা হয়। একই সময় ডুমুরিয়া থেকে জরুরী কৃষি বীজ সরবরাহ কারী মাহবুব, খালি মাহিন্দ্রা নিয়ে ফেরার পথে তার গতিরোধ করে মাহিন্দ্রার চাকায় ভোমর ফুটিয়ে দেওয়া হয়।

মাহবুব জানায়, পরিবহনের সামনে জরুরী বীজ সরবরাহ কাজে নিয়োজিত ব্যানার থাকলেও শেষ রক্ষা হয়নি।

এছাড়াও সহকারী পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে সাধারন মানুষের উপর নানাবিধ নির্যাতনের অভিযোগ আছে বলে জানান এলাকাবাসী। এদের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্থ্য কলাপোতা গ্রামের কদমতলা এলাকার চা দোকানি লিটন জানান ১৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় তার ১৪ তারিখ থেকে বন্ধ চায়ের দোকানের চুলাভাংচুর করে মূল্যবান যন্ত্রপাতি তুলি নিয়ে গেছে বলে তিনি জানান।

চা দোকানদার লিটন করে বলেন, বন্ধকৃত চায়ের দোকান ভাংচুর করে মালামাল নিয়ে গেলেও পাশ্বের চলমান চায়ের দোকানে কেন অভিযান হয়নি। এছাড়াও চা দোকানি আব্দুল হাকিম ও শেখ অজিয়ার রহমানের দোকানে হামলা করে বেধড়ক মারপিট করা সহ চায়ের কেটলি নিয়ে যাওয়ারও অবিযোগ রয়েছে।

এ সব ঘটনায় ভূক্তভোগীরা পুলিশ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবিরের এসব কর্মকান্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করে পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।