ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
ব্রেকিং নিউজ

স্টাফ রিপোর্টার

১৫ এপ্রিল ২০২১, ১৫:০৪

লকডাউনে ক্র্যাকডাউন হেফাজতে ইসলাম !

16829_babunogori-and-mamunul.jpg
হেফাজত আমীর ও যুগ্ন মহাসচিব
করোনা মহামারীর তান্ডবে দেশের রাজনীতি অনেকটাই শান্ত বলে মনে হচ্ছে। কঠোর লকডাউনের কারণে কোনো রাজনৈতিক দলের মাঠ পর্যায়ে কোনো কর্মসূচি নেই। ভার্চুয়ালি চলছে কিছু কর্মকান্ড। তবে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে মাহে রমজান। এসময় সাধারণত রাজনৈতিক দলগুলো বিশেষ করে ধর্মভিত্তিক দলগুলো রমজান মাসের কর্মসূচিতে ব্যস্ত থাকতো কিন্তু এতে বাধা হয়েছে করোনা ও লকডাউন। তবে এর মধ্যেও সরকার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে হেফাজতে ইসলামকে দমনে মরিয়া কেন? সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া বিষয়গুলোকে সামনে রেখে হেফাজতের ওপর ক্র্যাকডাউন চালানো হচ্ছে না তো! এতসব সামলিয়ে হেফাজত আগামীতে সক্রিয় থাকবে কি না তা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে ।

সাম্প্রতিক ঘটনার সূত্রপাত হয় ২৬শে মার্চ থেকে ২৮ শে মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরকে ঘিরে। সফরের বিরোধিতাশ তিন দিন ধরে হেফাজতের কর্মসূচিকে ঘিরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রামের হাটহাজারী এবং ঢাকার বায়তুল মোকাররম এলাকায় ব্যাপক সহিংসতা হয়েছে । এতে কমপক্ষে ১৭ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

এই সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে শত শত অজ্ঞাতনামাকে আসামী করে ব্রাহ্মণবাড়িয়াতেই ৫১টি মামলা করা হয়েছে। রেলস্টেশন, ভূমি অফিস, থানাসহ বিভিন্ন সরকারি অফিসে আক্রমণ, ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগসহ নাশকতার নানা অভিযোগ রয়েছে মামলাগুলোতে।

এ মামলায় ইতিমধ্যে প্রায় ২০০ জন হেফাজত কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ । অন্যদিকে সংগঠনটির যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের স্ত্রীকে নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলে হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতাদের বৈঠকের পর সংগঠনটির পক্ষ থেকে সাংগঠনিক অবস্থান পরিস্কার করা হয়। স্বপদে বহাল থাকেন মামুনুল হক। ওই বৈঠকের পর থেকে কেন্দ্রীয় নেতাদের গ্রেফতার শুরু হয়। করোনা পরস্থিতিতে সব কিছু বন্ধ থাকলেও হেফাজত কর্মীদের গ্রেফতার ব্যাপারে পুলিশকে বেশ তৎপর দেখা যাচ্ছে ।

এমতাবস্থায় অনেক হেফাজত নেতা মনে করছেন, লকডাউন দিয়ে আন্দোলন কারীদের গ্রেফতার করে হেফাজতের ওপর ক্র্যাকডাউন এবং ভবিষ্যৎ আন্দোলন দমানোর অপচেষ্টা করছে সরকার ।

এছাড়াও গত ১৩ এপ্রিল হেফাজতে ইসলামের হরতালে সহিংসতার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সংগঠনটির নারায়ণগঞ্জ জেলা সেক্রেটারি মুফতি বশির উল্ল্যাকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাত ১১ টায় সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড় লন্ডন মার্কেট এলাকায় নির্মাণাধীন বাড়ী থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গত ২৮ মার্চ হেফাজতে ইসলামের হরতালে সংঘর্ষের ঘটনায় নারায়নগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মোট ৮টি মামলা দায়ের করা হয়।

সরকারের চাপ মোকাবিলায় সাংগঠনিক নানা তৎপরতা বৃদ্ধি

তবে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ মামলা, গ্রেপ্তার ও সরকারের চাপ মোকাবিলায় সাংগঠনিক নানা তৎপরতা বৃদ্ধি শুরু করেছে । তারা দেশের প্রতিটি ওয়ার্ডে কমিটি গঠন, জেলায় জেলায় আইনি সহায়তা সেল গঠন এবং বিভিন্ন দূতাবাসে স্মারকলিপি দেওয়াসহ বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

গত রোববার হাটহাজারী মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

আগামী ২৯ মে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে সারাদেশের ওলামা-মাশায়েখদের নিয়ে সম্মেলনের আগে এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছিল। তবে নেতা–কর্মীদের গ্রেপ্তার বেড়ে যাওয়ায় শিগগিরই নতুন কর্মসূচি দেওয়ার বিষয়েও নেতাদের মধ্যে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।

পুরনো মামলা উজ্জীবিত

দৃশ্যত হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক কাঠামোকে দুর্বল করার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ । তার বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের ৫ই মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্তরে অবৈধ সমাবেশ, হত্যাচেষ্টা, পুলিশের কাজে বাধা, এবং বিস্ফোরক আইনে সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। তাকে আটকের পর গত ১২ এপ্রিল সোমবার ঢাকা মহানগর হাকিম দেবদাস চন্দ্র অধিকারী শুনানি শেষে এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আট বছর আগে হেফাজতে ইসলামের ঢাকা অবরোধকে কেন্দ্র করে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় করা মামলাগুলো নিয়ে নতুন করে তৎপর হচ্ছে পুলিশ।
সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সবুজ সংকেতের পর হিমঘরে থাকা মামলাগুলো পুনরুজ্জীবিত করছে পুলিশ। এটি একটি চাপ প্রয়োগের কৌশল বলে মনে করছেন অনেকে।

রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা

হেফাজতের বিষয়ে কিছুদিন আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলছেনে , হেফাজতের ব্যাপারে সরকার এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তিনি মনে করেন শুধু এই মামলা দিয়েই হবে না। হেফাজতকে রাজনৈতিকভাবেও মোকাবেলা করতে হবে। করোনার কারণে এখন মাঠে নামা যাচ্ছে না বলে কিছু করা যাচ্ছে না বলে জানান তিনি।

২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনার পরও ঢাকাসহ সারাদেশে ৮৩টি মামলা হয়। মামলায় কয়েক হাজার হেফাজত নেতা-কর্মীকে আসামি করা হলেও মামলাগুলোর কোনো অগ্রগতি ছিল না এতদিন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ সাম্প্রতিক ঘটনায় বলেন, ‘‘সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে আসামিদের শনাক্ত করা হচ্ছে। তদন্তে যারা যারা জড়িত তাদের নাম বেরিয়ে আসবে। আর শাপলা চত্বরের ঘটনা নিয়েও তদন্ত হচ্ছে।”

পুরনো মামলায় গ্রেপ্তার উদ্দেশ্যমূলক

হেফাজত ইসলামের আমীর আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী এক বিবৃতিতে বলেন , পুরনো মামলায় গ্রেপ্তারকে উদ্দেশ্যমূলক। হেফাজত–সংশ্লিষ্ট কেউ কেউ মনে করছেন,হেফাজতকে চাপে রাখতে মামলাগুলো সামনে আনা হচ্ছে।

সংগঠনটির কেন্দ্রীয় মহাসচিব নুরুল ইসলাম জেহাদী বলেছেন, পুরোনো মামলা সামনে এনে হেফাজতের নেতাকর্মীদের টার্গেট করে হয়রানি করা হচ্ছে। "যে সব মামলা করা হইছে, এগুলোরে ভিত্তি নাই বলে আমরা মনে করি," ।

তবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এক প্রেসব্রিফিংয়ে বলেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ধর্মের নামে যারা সহিংসতা করেছে, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ভিডিও ফুটেজ দেখে তাদেরকেই আইনের আওতায় আনছে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ বলেছেন, নাশকতার ঘটনাগুলো নিয়ে সরকার আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের একটা বার্তা দিতে চাইছে সরকার ।

উল্লেখ্য ,হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ বাংলাদেশের কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক একটি সংগঠন, এই সংগঠনটি ২০১০ সালের ১৯ জানুয়ারি গঠিত হয়। প্রায় একশত কওমি মাদ্রাসার শিক্ষকদের নিয়ে গঠিত হয়। হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালক শাহ আহমদ শফী এই সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা।এটি ২০১০ সালে বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষানীতির বিরোধিতার মধ্য দিয়ে আত্মপ্রকাশ করে।

২০১৩ সালে তারা ইসলাম ও রাসুলকে কটূক্তিকারী নাস্তিক ব্লগারদের ফাঁসি দাবি করে ব্যাপক আন্দোলন ও সমাবেশ শুরু করে। এ প্রেক্ষিতে ১৩ দফা দাবি উত্থাপন করে হেফাজতর ইসলাম। এই দাবির কয়েকটি দফা সমালোচিত হলে পরবর্তীতে তারা সংবাদ সম্মেলনে ১৩ দফার ব্যাখ্যা প্রদান করে।