ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
ব্রেকিং নিউজ

শহীদুল ইসলাম

১৭ মার্চ ২০২১, ২০:০৩

সবকিছু স্বাভাবিক চললেও করোনার অজুহাত শুধুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে

16216_শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান.jpg
ছবি- সংগৃহীত
দেশের সর্বত্র সবকিছু চলছে স্বাভাবিক।কোনকিছুই বন্ধ নেই।কিন্তু করোনার অজুহাত যেন শুধুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ঘোষণা দিয়েও বার বার পিছিয়ে আসছে সরকার।ইতোমধ্যে পূর্ণ হয়েছে এক বছর।

করোনা মহামারির সংক্রমণরোধে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে একবছর ধরে। গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করা হয়। সরকারের সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ২৯ মার্চ পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি বহাল থাকবে।

আগামী ৩০ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ঘোষণা থাকলেও সম্প্রতি সংক্রমণ বাড়তে থাকায় ছুটির বিষয়টি রিভিউ হতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

এ দিকে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু আবরো বাড়ছে। গত ১৬ মার্চ মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ২০ হাজার ৭৪৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় নতুন করে ১ হাজার ৭১৯ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এতে দেশে মোট শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়ায় ৫ লাখ ৬০ হাজার ৮৮৭ জন। একই সময় নতুন ২৬ জন মৃত্যু হয়। সবমিলিয়ে দেশে করোনায় প্রাণ হারিয়েছেন আট হাজার ৫৯৭ জন।

১৭ মার্চের খবরে বলা হয়,তিন মাসের মধ্যে করোনাভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় (মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তবে গত দুই দিনের তুলনায় মৃত্যু কমেছে।

এতে আরো বলা হয়,দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় সংক্রমিত ১ হাজার ৮৬৫ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এ সময়ে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত আরও ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এর আগে গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর ১ হাজার ৮৭৭ জন করোনায় সংক্রমিত রোগী শনাক্ত হয়।

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (১৭ মার্চ)দেশে মোট ৫ লাখ ৬২ হাজার ৭৫২ জনের শরীরে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছেন ৮ হাজার ৬০৮ জন। মোট সুস্থ হয়েছেন ৫ লাখ ১৫ হাজার ৯৮৯ জন।

২০১৯ সালের শেষ দিকে চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে। গত বছরের ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের ঘোষণা আসে। দেশে প্রথম করোনায় সংক্রমিত ব্যক্তির মৃত্যুর ঘোষণা আসে ১৮ মার্চ।

দেশে সংক্রমণ শুরুর দিকে রোগী শনাক্তের হার কম ছিল। গত মে মাসের মাঝামাঝি থেকে সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে। মে মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত রোগী শনাক্তের হার ২০ শতাংশের ওপরে ছিল। এরপর থেকে নতুন রোগীর পাশাপাশি শনাক্তের হারও কমতে শুরু করেছিল। মাস দুয়েক সংক্রমণ নিম্নমুখী থাকার পর গত নভেম্বরের প্রথম দিক থেকে নতুন রোগী ও শনাক্তের হারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু হয়। ডিসেম্বর থেকে সংক্রমণ আবার কমতে শুরু করে। তবে গত চার সপ্তাহের বেশি সময় ধরে সংক্রমণ আবার ঊর্ধ্বমুখী।

করোনা মহামারি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে গত ২৭ জানুয়ারি দেশে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। এদিন গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চ্যুয়ালি টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশে গণটিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়।

স্মরণ করা যেতে পারে যে,করোনা সংক্রমনরোধে অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশে গত বছরের ২৩ মার্চ থেকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়।প্রথমে ১০দিনের জন্য লকডাউন ঘোষণা করা হলেও পরে তা চলে ৩০ মে পর্যন্ত।

লকডাউন উঠে যাওযার পর ধীরে ধীরে সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে গেছে। রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে রাস্তা,ঘাট,হাটÑবাজার,গণপরিবহণসহ সব চলছে স্বাভাবিক। সরকারের তরফ থেকে মাস্ক পরতে বলা হলেও মানুষ তাও পরছেনা। ভীড়Ñভাট্টা আগের মতই। মানুষ গায়ে গা মিলিয়ে চলতেও কসুর করছেনা। সময়ের ব্যবধানে মানুষ এতটাই স্বাভাবিক হয়ে গেছে যে,বোঝাই দায় হয়ে পড়েছে,দেশে বা বিশে^ ‘করোনা’ নামক কোন মহামারি আছে।

সব স্বাভাবিক চললেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলছেনা। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় প্রায় চার কোটি শিক্ষার্থীর পড়াশোনা বিঘ্নিত হচ্ছে গত এক বছর ধরে। সংক্রমণ পরিস্থিতিতে গত বছরের প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষা এবং জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে।

শিক্ষক, শিক্ষার্থী , অভিভাবক এবং শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এক বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার চরম ক্ষতি হয়েছে। গত বছরের প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষা, জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা বাতিল করা হয়।

গত বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষাও হয়নি। পরীক্ষা না নিয়েই এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীদের মূল্যায়নের ফল গত জানুয়ারিতে ঘোষণা করা হয়। এ ছাড়াও প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে বার্ষিক পরীক্ষা ছাড়াই শিক্ষার্থীদের পরের শ্রেণীতে উত্তীর্ণ করা হয়েছে।

চলতি বছরের এসএসসি ও দাখিলসহ সমমানের পরীক্ষা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। তা ছাড়া এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষারও সময় ঘনিয়ে আসছে। এর মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া সম্ভব না হলে শিশু-কিশোরদের শিক্ষাজীবন মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

যদিও করোনাকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি থাকলেও ‘অনলাইন শিক্ষা’ কার্যক্রম চালু রেখেছে সরকার। স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চলমান আছে। কিন্তু গ্রামীণ শিক্ষার্থীরা এর সুফল খুব একটা নিতে পারছে না। কওমী মাদাসাগুলো অবশ্য আগেই খুলে দেয়া হয়েছে। এসব মাদরাসায় শিক্ষাকার্যক্রম স্বাভাবিক গতিতেই চলছে। মাদরাসাগুলো খুলে দেয়ার পর করোনার কোনো প্রভাব এসব ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লক্ষ্য করা যায়নি।

দীর্ঘদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় গরীব ও প্রান্তিক পরিবারের শিক্ষার্থীরা অনেকেই লেখাপড়া ছেড়ে দিয়েছে। তারা লেবারের কাজ করছে। গ্রামিন অনেক পরিবারের শিক্ষার্থী এক কৃষিশ্রমিক,নির্মানশ্রমিক বা উন্নয়নশ্রমিকের কাজ করছে।কলেজ,বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের অনেকেই বিপথগামী হয়ে পড়েছে। সেই সাথে শিক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যবসাীদের হাড়ি শিকেয় উঠেছে। এসব দেখার যেন কেউ নেই। অনেকেই বলছেন, শিক্ষাক্ষে অগ্রসরমান জাতিকে পিছিয়ে দেয়ার জন্য কোন দেশি-বিদেশী চক্রান্ত কাজ করছেনা তো?