ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
ব্রেকিং নিউজ

এনএনবিডি২৪ ডেস্ক

১৭ মার্চ ২০২১, ১৮:০৩

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন শুরু

16209_569801_158.jpg
‘মুজিব চিরন্তন’ প্রতিপাদ্যে বঙ্গবন্ধু জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন শুরু। ছবি- সংগৃহীত

 

শিশু কণ্ঠে জাতীয় সংগীত ও ‘মুজিব চিরন্তন’ প্রতিপাদ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন শুরু করেছে বাংলাদেশ।
 
বুধবার (১৭ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৪টায় রাজধানীর জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে ১০ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করা হয়।
 
অনুষ্ঠানের প্রতিপাদ্য ধরা হয়েছে- ‘ভেঙেছ দুয়ার, এসেছ জ্যোতির্ময়’। বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার এ থিমে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ড এলাকায় গ্রামবাংলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তুলে ধরার পাশাপাশি উন্নয়নের নানা দিকও ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
 
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তির দিনে অর্থ্যাৎ ২৬ মার্চ জাতীয় পর্যায়ে দশ দিনের অনুষ্ঠানমালা শেষ হবে। জাতীয় প্যারেন্ড গ্রাউন্ডে দশ দিনের এই অনুষ্ঠানমালার পাঁচ দিনের আয়োজনে যোগ দেবেন প্রতিবেশী পাঁচ দেশের রাষ্ট্রপতি ও সরকার প্রধান।
 
বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের মহামারির কারণে ওই পাঁচ দিনের আয়োজনে সর্বোচ্চ পাঁচশ জন আমন্ত্রিত অতিথি অংশ নিতে পারবেন। অনুষ্ঠানে আসার আগে তিনি করোনাভাইরাস সংক্রমিত নন তা পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে হবে।
 
বাকী পাঁচদিনের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের কেউ জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে থাকবেন না; শিল্পীদের পরিবেশনা সেখানে থেকে টেলিভিশন আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারে সীমাবদ্ধ থাকবে।
 
উদযাপন অনুষ্ঠানে উপস্থিত রয়েছেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহাম্মদ সলিহ এবং ফার্স্ট লেডি ফাজনা আহমেদ এছাড়া আরও উপস্থিত রয়েছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ রেহানা এবং রাষ্ট্রপতির স্ত্রী রাশিদা খানম প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করছেন আসাদুজ্জামান নূর।
 
জাতীয় কমিটি বাস্তবায়ন কমিটির এ আয়োজনের শুরুতে বিকেল ৪টা ৩৬ মিনিটে সমাবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বাঙালির ইতিহাসের অনন্য এ উদযাপন। পরে ৩৯ মিনিটে 'আনন্দলোকে গায়ে মাখা' এবং 'শুকনো পাতার নূপুর পায়ে'সহ তিনটি গান পরিবেশন করেন শতাধিক শিশু শিল্পী। ৪৮ মিনিটে আমন্ত্রিত অতিথিদের নিয়ে মূলমঞ্চে আসন গ্রহণ করেন রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ৫১ মিনিটে পবিত্র ধর্মগ্রন্থগুলো থেকে পাঠ করা হয়।

এরপর বিকেল ৫টার দিকে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম।
 
অনুষ্ঠানমালা দশ দিনের অনুষ্ঠানমালার দ্বিতীয় দিনের (১৮ মার্চ) থিম থাকবে- ‘মহাকালের তর্জনী’, ১৯ মার্চ ‘যতকাল রবে পদ্মা যমুনা’, ২০ মার্চ ‘তারুণ্যের আলোকশিখা’, ২১ মার্চ ‘ধ্বংসস্তূপে জীবনের গান’, ২২ মার্চ ‘বাংলার মাটি আমার মাটি’, ২৩ মার্চ ‘নারীমুক্তি, সাম্য ও স্বাধীনতা’, ২৪ মার্চ ‘শান্তি-মুক্তি ও মানবতার অগ্রদূত’, ২৫ মার্চ ‘গণহত্যার কালরাত্রি ও আলোকের অভিযাত্রা’ এবং ২৬ মার্চ ‘স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর ও অগ্রগতির সুবর্ণরেখা’।

দশ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালায় ১৭ মার্চ ছাড়াও ২২ মার্চ ও ২৬ মার্চ তারিখের অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ এবং ১৭ মার্চ, ১৯ মার্চ, ২২ মার্চ, ২৪ মার্চ ও ২৬ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত থাকবেন। এ পাঁচদিনের অনুষ্ঠানে বিদেশি রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

বুধবার মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতি ইব্রাহিম মোহামেদ সলিহ উপস্থিত রয়েছেন। এছাড়া ১৯ মার্চ শ্রীলংকার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে, ২২ মার্চ নেপালের রাষ্ট্রপতি বিদ্যা দেবী ভান্ডারি, ২৪ মার্চ ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং ও ২৬ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উপস্থিত থাকবেন।
এছাড়াও আজকের অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং এবং কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। ১৮ মার্চ কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেন, ২০ মার্চ ওআইসির সেক্রেটারি জেনারেল ড. ইউসেফ আহমেদ আল-ওথাইমিন, ২২ মার্চ জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইউশিহিদে সুগা, ২৩ মার্চ ইউনেস্কোর মহাপরিচালক ইরিনা বোকাভা, ২৪ মার্চ পোপ ফ্রান্সিস এবং ২৫ মার্চ দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী চুং স্যু-কুয়েন ও মুক্তিযুদ্ধের বিদেশি বন্ধু তাকাশি হাওয়াকাওয়ার ছেলে ওসামু হাওয়াকাওয়া ভিডিও বার্তা দেবেন।

বুধবারের মতো ১৯ মার্চ, ২২ মার্চ, ২৪ মার্চ ও ২৬ মার্চ তারিখের অনুষ্ঠান বিকেল সাড়ে ৪টায় শুরু হবে এবং রাত ৮টায় শেষ হবে। অন্যান্য দিনের অনুষ্ঠান বিকেল সোয়া ৫টায় শুরু হবে এবং রাত ৮টায় শেষ হবে। প্রতিদিনের অনুষ্ঠানে সন্ধ্যা ৬টা থেকে সাড়ে ৬টা পর্যন্ত ৩০ মিনিটের বিরতি থাকবে।

পাঁচদিনের অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য বিধি অনুসরণ করে সীমিত আকারে ৫০০ জন আমন্ত্রিত অতিথি উপস্থিত থাকবেন। অনুষ্ঠানমালায় বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, সরকার প্রধান, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধান এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগণের ধারণকরা বক্তব্য প্রদর্শন করা হবে। প্রতিদিনের অনুষ্ঠান টেলিভিশন চ্যানেল, অনলাইন মিডিয়া এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।