ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
ব্রেকিং নিউজ

স্টাফ রিপোর্টার

১৪ মার্চ ২০২১, ২১:০৩

রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির অনিয়মের তদন্ত শুরু

16167_রোকেয়া.jpg
ছবি: সংগৃহীত
রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ ও তার অনুসারী শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ভিসি বিরোধীদের করা অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগগুলোর সাক্ষ্য ও দালিলিক তথ্যাদি গ্রহণ করতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন গঠিত তদন্ত কমিটি এখন ক্যাম্পাসে অবস্থান করছে।
রোববার (১৪ মার্চ) এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তারা সিন্ডিকেট রুমে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন।

রোববার বেলা পৌনে ১২টায় সৈয়দপুর বিমানবন্দর হয়ে ক্যাম্পাসে আসেন ইউজিসির তদন্ত কমিটির প্রধান ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক বিশ্বজিৎ চন্দ, সদস্য সচিব আবু তাহের। তাদের দাফতরিক কাজের সহযোগিতার জন্য আসেন ইউজিসিরি সিনিয়র সহকারী সচিব জামাল উদ্দিন ও শেখ আমিনুল ইসলাম।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সিন্ডিকেট রুমে তারা অভিযোগকারীদের ডেকে সাক্ষ্য গ্রহণ এবং দালিলিক প্রমাণ গ্রহণ করেন।
 
ইউজিসি গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান অধ্যাপক বিশ্বজিৎ চন্দ জানিয়েছেন, রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু পরিষদের ১৮টি, শিক্ষক সমিতির ১১টি এবং অধিকার সুরক্ষা পরিষদের ১১১টি বিধিলঙ্ঘন, দুর্নীতি, অনিয়ম, আর্থিক অসঙ্গতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বেচ্ছাচারিতার বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিনে সশরীরে সাক্ষ্য গ্রহণ ও দালিলিক তথ্য সংগ্রহের জন্যই ইউজিসির করা তদন্ত কমিটি কাজ করছে।

তদন্ত কার্যক্রম শুরুর আগে কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক বিশ্বজিৎ চন্দ্র জানান, ‘শিক্ষক সমিতির দেয়া ১১টি, দাবি ও বঙ্গবন্ধু পরিষদের দেয়া আঠারোটি দাবিসহ আরো ১১১টি অভিযোগের বিষয়ে আমরা তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করবো। তিনি বলেন তদন্ত কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাউকে অভিযুক্ত বলা যাবে না।’

এরই মধ্যে ২৫ ফেব্রুয়ারি দেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন বরাদ্দ তিনটি প্রকল্পের কাজের বিষয়ে ড. নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহকে দায়ী করে আরেকটি তদন্ত কমিটি মতামত ও প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

২০১৯ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর ভিসিসহ দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে ৪৫টি অভিযোগ এনে শিক্ষামন্ত্রীকে লিখিত অভিযোগ করেন আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন বঙ্গবন্ধু পরিষদ। সেই বিষয়ে গঠিত ইউজিসির তদন্ত কমিটি রোববার থেকে ক্যাম্পাসের অংশের কাজ শুরু করলেন।

অন্য দিকে শনিবার নিয়োগ বিধি ভঙ্গ করে ক্যাম্পাসে ধারাবাহিক অনুপস্থিতি, শিক্ষক কর্মকর্তা নিয়োগ ও পদোন্নতিতে দুর্নীতি, অনিয়ম স্বজনপ্রীতির অভিযোগ এনে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বিরুদ্ধে দীর্ঘ দিন থেকে আন্দোলনকারী অধিকার সুরক্ষা পরিষদ ভিসির বিরুদ্ধে ৭৯০ পৃষ্ঠার ১১১টি অভিয্গো এনে সংবাদ সম্মেলন করেন।

তদন্ত কমিটির কাছে সাক্ষ্য এবং দালিলিক প্রমাণ দিয়ে পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মতিউর রহমান বলেন, আমরা যে দালিলিক প্রমাণ দিয়েছি। এ ছাড়াও ভিসির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ হয়েছে। আমরা মনে করি তাকে অপসারণ করে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ছাড়াও তার সাথে যেসব শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী জড়িত তাদেরকে চাকরিচ্যুত ও আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। যাতে আর কেউ উচ্চ বিদ্যাপিঠকে আর এভাবে নষ্ট করতে না পারে।

ভিসি ড. নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ এসব অভিযোগকে মিথ্যা ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে দাবি করে বলেন, যারা আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন তারা হাতে গোনা ও চেনা মুখ। তারা আমার পূর্বতন ভিসি প্রফেসর ড. নুর উন নবীর সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন, তারা তার আত্মীয় স্বজন, গুনগ্রাহী ও তার বেনিফিসিয়ারি। তার সময়কার অনিয়ম ও দুর্নীতির ধারকবাহক তারা। যে অভিযোগগুলো করা হয়েছে তা ভিত্তিহীন বানোয়াট এবং উদ্দেশ্য প্রণোদিত। পুরো বিষয়টি পরিকল্পিত, উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও দুরভীসন্ধিমূলক। এর কোনো ভিত্তি নেই।