ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
ব্রেকিং নিউজ

১০ মার্চ ২০২১, ১৮:০৩

কার্টুনিস্ট কিশোর: নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করলেন আদালতে

16116_কা.png
আদালতে মামলা করলেন কার্টুনিস্ট কিশোর। ছবি: সংগৃহীত
নির্যাতনের অভিযোগ তুলে অজ্ঞাত আসামীদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন কার্টুনিস্ট কিশোর। বাংলাদেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দশ মাস ধরে কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পাওয়া কার্টুনিস্ট কিশোর বুধবার (১০ মার্চ) দুপুরে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে এই মামলাটি করেন।
 
কিশোরের বড় ভাই আহসান কবির গণমাধ্যমকে বলেন, তার ভাইকে ২০২০ সালের ২রা মে বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায় অজ্ঞাত ব্যক্তিরা। তিন দিন নির্যাতনের পর তাকে ৫ই মে র‍্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তাকে ২রা মে কারা তুলে নিয়ে গিয়েছিল পরবর্তী তিন দিন কারা নির্যাতন করেছিল, তা যেহেতু তারা জানেন না, তাই অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলাটি করেছেন তারা।
 

নির্যাতনের বর্ণনা:

গত চৌঠা মার্চ কারাগার থেকে মুক্তি লাভের পর গণমাধ্যমের কাছে তার উপর নির্যাতনের ভয়াবহ বর্ণনা দেন কিশোর। তিনি বলেন, কীভাবে কোন ওয়ারেন্ট কিংবা কোন পরিচয়পত্র না দেখিয়ে তাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় এবং কীভাবে গোপন বন্দিশালায় তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়। এরপর তাকে কোন জামিন না দিয়ে ১০ মাস কারাগারে আটক রাখা হয়।

এই নির্যাতনের জেরে তার কান পর্দা ফেটে যায়। পুলিশের এফআইআর-এ লেখা হয়েছে তাকে ৫ই মে ভোরবেলা গ্রেফতার করা হয়। এর অর্থ অন্তত ৬০ ঘণ্টা সময় ধরে তাকে বেআইনিভাবে আটক রাখা হয়েছিল।
 
দ্যা স্টারের তরফ থেকে এবিষয়ে র‍্যাবের সাথে যোগাযোগ করা হলে সংস্থাটির মিডিয়া ও আইন বিষয়ক পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ্ জানান, আইন মেনেই আহমেদ কবির কিশোরকে আটক করা হয়েছে। "একজন আসামী যা খুশি তাই বলতে পারে।"
 
কিন্তু আহমেদ কবির কিশোরের এই নির্যাতনের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বিবিসিকে বলেন, কারাগারে কোন নির্যাতন হয়নি এবং অন্য কোথাও হয়ে থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে।

তিনি আরও বলেন, "ওনাকে কোথায় নির্যাতন করলো, আমরা জানবো কী - আটক অবস্থায়তো কোন নির্যাতন হয়নি। এখন কোথায় হয়েছে - আমি তাদের স্টেটমেন্ট...। আমাদের জেলখানায় কোন নির্যাতন কাউকে করা হয় নাই। আমরা না দেখে বলতে পারবো না"।

ডিজিটল নিরাপত্তা আইনে গত বছর কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর ও লেখক মুশতাক আহমেদকে আটক করে কারাগারে রাখা হয়েছিল। তাদেরকে ছবার জামিন আবেদন নাকচ করা হয়।

এরই এক পর্যায়ে গত মাসে কারাগারে থাকা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে মুশতাক খান মারা যান। এর পরই গত তেসরা মার্চ কিশোরকে জামিনের আদেশ হয় এবং চৌঠা মার্চ মুক্তি পান।