ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
ব্রেকিং নিউজ

৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৭:০২

ছেলের নেশা ছাড়াতে জেলে দিয়েছিলেন বাবা, সেখানে পিটিয়ে হত্যা

15915_49221.jfif
কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে এক হাজতির পিটুনিতে আরেক হাজতি নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও এক হাজতি। মঙ্গলবার ভোর চারটার দিকে জেলা কারাগারের ভেতর ১১ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

কারাগার সূত্রে জানা গেছে, নিহত হাজতির নাম আবদুল হাই (২৭)। তিনি কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার শিমুলিয়া এলাকার ইসরাইল মিয়ার ছেলে। তিনি মাদক মামলার আসামি ছিলেন। তাঁর বাবা ইসরাইল মিয়া নিজেই সংশোধন হওয়ার জন্য প্রায় এক মাস আগে (৬ জানুয়ারি) ছেলেকে পুলিশে ধরিয়ে দেন।

কারাগারের আরেক হাজতি সাইদুর মিয়া (৩৬) দরজার ওপরের কাঠের অংশ দিয়ে পিটিয়ে তাঁকে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সাইদুর মিয়া তাড়াইল উপজেলার কল্লা মাইজপাড়া গ্রামের ইসমাইল মিয়ার ছেলে। তিনি ধর্ষণ মামলার আসামি।

শ্যালিকাকে ধর্ষণের পর মেরে ফেলার ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় তিনি ২০১৭ সালের ৭ জুলাই থেকে কারাগারে আছেন। আহত অপর হাজতির নাম জাহাঙ্গীর (২৮)। তিনি জেলার নিকলী উপজেলার রোদারপুড্ডা এলাকার শাহজাহানের ছেলে।

কিশোরগঞ্জের জেল সুপার মো. বজলুর রশীদ বলেন, মঙ্গলবার ভোররাত চারটার দিকে জেলা কারাগারের ভেতর ১১ নম্বর কক্ষের দরজার ওপরের অংশের কাঠ ভেঙে দুই হাজতি মারামারি শুরু করেন। এ সময় আরেকজন আহত হন। পরে তাঁদের উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে আবদুল হাইকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। তাঁর মরদেহ কিশোরগঞ্জ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

অভিযুক্ত সাইদুর মিয়াকে জেলা কারাগারে আলাদা কক্ষে রাখা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করা হচ্ছে। আহত জাহাঙ্গীরকে কারাগারে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

নিহতের বাবা ইসরাইল মিয়া ও বড় ভাই আল আমিনের দাবি, নেশা থেকে মুক্তি পেতে আবদুল হাইকে দেওয়া হলো নিরাপদ জায়গায়। অথচ তিনি সেখান থেকে লাশ হয়ে ফিরে এলেন। তাঁদের দাবি, আবদুল হাইকে সাইদুর একা মারেননি। এতে অন্যদেরও হাত আছে। ক্ষত দেখেও তা বোঝা যাচ্ছে।

কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলম বলেন, বিষয়টি তাঁরা গুরুত্বসহকারে নিয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল মাসউদকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।