ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
ব্রেকিং নিউজ

আজাহার ইসলাম, ইবি

১৪ নভেম্বর ২০২০, ১৭:১১

হেমন্তেই শীতের ছোঁয়া

15276_pic 11.jpg
শীতের সকালের মিষ্টি রোদ
ঘুম ভাঙতেই মোবাইলের স্ক্রীনে ভেসে উঠলো, ‘শীত মানে আনন্দ, শীত মানে খুশি, শীতের পিঠার দাওয়াত না পেলে মারবো এক ঘুশি।’ শীতের আগমন উপলক্ষে এক বন্ধু মজা করেই এমন খুদেবার্তা পাঠিয়েছে। সাধারণত হেমন্তের পরেই আসে শিশিরভেজা, কুয়াশাছন্ন শীতকাল।

কিন্তু, প্রকৃতির সচরাচর নিয়ম ভেঙ্গে এবার একটু আগেই ধরায় শীতের আগমন ঘটেছে। ঘাসের কোণায় লেগে থাকা শিশিরবিন্দু তা স্পষ্টভাবে জানান দিচ্ছে। সেই ক্ষুদেবার্তার ন্যায় সত্যিই যেন আনন্দের ধুম পড়ে যায় শীতে। ভোরে ঘুম ভাঙতেই খেঁজুরের রস, ধোয়া ওঠা ভাপা পিঠা, পাটালি গুড়সহ নানান বর্ণের নকশি পিঠা-পুলির উৎসব লেগে যায়। উৎসবের পাশাপাশি ছোট বেলায় শীত এলেই ধুম পড়ে যেত শীতের সকাল রচনা মুখস্ত করার। কারণ সব বার্ষিক পরীক্ষাই শীতকালে হতো।

শীতের সকালে এক চিমটি রোদ যেন স্বর্গের ছোঁয়া যায়গায় মনের কোণে। শীতের সকালে রোদ পোহানোর আনন্দটাই অন্যরকম। কুয়াশাচ্ছন্ন শীতের সকালে গায়ে লেপ/চাদর মুড়ি দিয়ে শুয়ে থাকি আর অপেক্ষা কখন সুয্যিমামা হাসিমুখ নিয়ে দেখা দেবে পূর্বাকাশে। সূর্য পূর্বাকাশে উকি দেয়ার সাথে সাথেই কম্বল ছেড়ে ভোঁ দৌড় রোদের দিকে। মনে হয় দীর্ঘদীন পরে কারো দেখা মিললো। বিশেষ করে যারা উত্তরবঙ্গে বসবাস করে শীতের দিনে সূর্য তাদের কাছে যেন ‘অমাবস্যার চাঁদ।’ সূর্য উঠলেই নানা পরিকল্পনা কাজ করতে থাকে গ্রামীণ রমণীদের মনে।

অনেকে শীতের তীব্রতা সইতে না পেরে সারাদিন উঠানে আগুনের সামনে বসে আগুন পোহায়। কথায় আছে, ‘কারো পৌষ মাস, আবার কারো সর্বনাশ।’ শীত কারো জন্য আশির্বাদ আবার কারো জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। যারা ধনী তাদের কাছে এই শীত উৎসবমুখর হলেও দরিদ্রদের কাছে শীত সাপের মত। শীত আসলেই জ্যাকেট, সোয়েটার, হুডির দাম আকাশচুম্বী হয়ে যায়। ধনী ব্যক্তিদের কেনাকাটায় উৎসব লেগে পরে। লেটেস্ট মডেলের সোয়েটার যেন কিনতেই হবে।

এদিকে দরিদ্ররা পরিবারের জন্য একটি করে শীতবস্ত্র কেনার টাকা জোগাড় করতেই হিমশিম খায়। অনেকে আবার এই শীতে সারারাত না ঘুমিয়ে আগুন জ্বালিয়ে আগুনের সামনে বসে থাকে। শীতে যারা কষ্টে ভোগে অধিকাংশই আমাদের দেশের কৃষক। যাদের আমরা এদেশের প্রাণ বলে থাকি। তারা তাদের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় জীবন ধারণ কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গরীবদের দুর্দশা রোকেয়া শাখাওয়াত হোসেনের ভাষায়, ‘রোদে পুড়ে খাইটা মরিরে ভাই পাছায় জোটেনা ত্যানা, বৌয়ের পৈছা বিকায় তবু ছৈলা পায়না দানা।’ আমাদের দেশে এ কষ্টটা বেশি ভোগে কৃষকেরা। এছাড়াও যারা রেল লাইনের বস্তিগুলোতে বসবাস করে তাদের অবস্থা তো আরো দুর্বিসহ। তাদের শীত আনন্দ তো দুরের কথা শীতের একটি কাপড় পর্যন্ত জোটেনা।

আজাহার ইসলাম, শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।